০২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে তরুণের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা; কথিত সোর্স আলমগীর কারাগারে

পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই: হরিরামপুরে কথিত সোর্স গ্রেপ্তার, এএসআই ক্লোজড

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে এক তরুণের পথরোধ করে মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে হরিরামপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানাকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আলমগীর হোসেন (২৮) নামে তার এক কথিত ‘সোর্স’কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর হোসেন উপজেলার কর্মকারকান্দি বয়ড়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হরিরামপুর থানার এএসআই সোহেল রানা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের না জানিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তার ব্যক্তিগত সোর্স আলমগীরকে নিয়ে বলড়া ইউনিয়ন এলাকায় একটি অননুমোদিত অভিযানে যান। বলড়া মোড় এলাকায় তায়েফ হোসেন নামে এক তরুণের মোটরসাইকেলের গতি রোধ করেন তারা। এ সময় নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে মাদক খোঁজার নামে ওই তরুণের শরীর তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে তরুণকে মারধর করে তার পকেট থেকে ২,৬০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনা দেখে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ জাগলে তারা এগিয়ে আসেন এবং অভিযুক্তদের ধাওয়া করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এএসআই সোহেল রানা নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে সোর্স আলমগীর হোসেনকে হরুকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে বলড়া মোড়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে এএসআই সোহেল রানার নির্দেশে এই ছিনতাই ও হয়রানি করার কথা স্বীকার করে। খবর পেয়ে হরিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে সোর্স আলমগীরকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।

অননুমোদিত অভিযান এবং সোর্সের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও টাকা ছিনতাইয়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এএসআই সোহেল রানাকে তাৎক্ষণিকভাবে হরিরামপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করে মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃত সোর্স আলমগীরকে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার স্পষ্ট জানিয়েছেন, জেলা পুলিশে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা চাঁদাবাজির আশ্রয় দেওয়া হবে না। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত এএসআইয়ের বিরুদ্ধে স্থায়ী বরখাস্তসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

তীব্র ভাঙনে দিশেহারা চরাঞ্চলের মানুষ-শেষ সম্বল ভিটামাটি হারিয়ে দিশেহারা শতাধিক পরিবার।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে তরুণের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা; কথিত সোর্স আলমগীর কারাগারে

পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই: হরিরামপুরে কথিত সোর্স গ্রেপ্তার, এএসআই ক্লোজড

Update Time : ০১:১৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে এক তরুণের পথরোধ করে মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে হরিরামপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানাকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আলমগীর হোসেন (২৮) নামে তার এক কথিত ‘সোর্স’কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর হোসেন উপজেলার কর্মকারকান্দি বয়ড়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হরিরামপুর থানার এএসআই সোহেল রানা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের না জানিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তার ব্যক্তিগত সোর্স আলমগীরকে নিয়ে বলড়া ইউনিয়ন এলাকায় একটি অননুমোদিত অভিযানে যান। বলড়া মোড় এলাকায় তায়েফ হোসেন নামে এক তরুণের মোটরসাইকেলের গতি রোধ করেন তারা। এ সময় নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে মাদক খোঁজার নামে ওই তরুণের শরীর তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে তরুণকে মারধর করে তার পকেট থেকে ২,৬০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনা দেখে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ জাগলে তারা এগিয়ে আসেন এবং অভিযুক্তদের ধাওয়া করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এএসআই সোহেল রানা নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে সোর্স আলমগীর হোসেনকে হরুকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে বলড়া মোড়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে এএসআই সোহেল রানার নির্দেশে এই ছিনতাই ও হয়রানি করার কথা স্বীকার করে। খবর পেয়ে হরিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে সোর্স আলমগীরকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।

অননুমোদিত অভিযান এবং সোর্সের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও টাকা ছিনতাইয়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এএসআই সোহেল রানাকে তাৎক্ষণিকভাবে হরিরামপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করে মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃত সোর্স আলমগীরকে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার স্পষ্ট জানিয়েছেন, জেলা পুলিশে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা চাঁদাবাজির আশ্রয় দেওয়া হবে না। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত এএসআইয়ের বিরুদ্ধে স্থায়ী বরখাস্তসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।