০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রমত্তা ধলেশ্বরী নদীর শান্ত ও স্নিগ্ধ শাখা খালের তীরে রেনেসাঁ স্থাপত্যের ছোঁয়া আর ধলেশ্বরীর বাণিজ্যিক বৈভবের ঐতিহাসিক জনপদ বেতিলা গ্রাম।

মানিকগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য: রেনেসাঁ স্থাপত্যের নিদর্শন বেতিলা জমিদার বাড়ির বৈভব

মানিকগঞ্জের বেতিলা জমিদার বাড়ির ইতিহাস, অগাধ প্রতিপত্তি, সম্পত্তির চুলচেরা বিবরণ ও আর্থ-সামাজিক ক্রমবিকাশের বিশদ মহানিবন্ধবাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত মানিকগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায়, প্রমত্তা ধলেশ্বরী নদীর একটি শান্ত ও স্নিগ্ধ শাখা খালের তীরে নদীবিধৌত এক ছায়াঘেরা ঐতিহাসিক জনপদ বেতিলা গ্রাম। মানিকগঞ্জ জেলা শহর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের অন্তর্গত এই প্রাচীন বেতিলা গ্রামটি এক সময় সমগ্র অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, সামন্ততান্ত্রিক ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক-প্রশাসনিক প্রভাব প্রদর্শনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।

ইতিহাস ও প্রাচীন রাজকীয় ভূ-রাজস্ব নথিপত্র গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এই বেতিলা জমিদার বংশ, তাঁদের রাজকীয় বৈভব, অনন্য স্থাপত্যশৈলী এবং ধলেশ্বরী নদীর বাণিজ্যিক রুটগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তাঁদের একচেটিয়া প্রতিপত্তি এ অঞ্চলের ইতিহাসের এক সুদীর্ঘ ও অকাট্য সাক্ষী হয়ে আজও টিকে রয়েছে।

বেতিলা জমিদার বংশের গোড়াপত্তন, সামাজিক বিকাশ এবং ক্ষমতার বিস্তৃতির পেছনের ইতিহাসটি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উনিশ শতকের পাট ও লবণের আন্তর্জাতিক ব্যবসার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

এই অঞ্চলে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বংশের আদি পুরুষ ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী জ্যোতি বাবু। তিনি শুরুতে অত্যন্ত দূরদর্শী এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, যিনি তৎকালীন সময়ে ধলেশ্বরী নদীর বাণিজ্যিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে লবণ ও কাঁচা পাটের ব্যবসায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেন।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বেতিলা অঞ্চলটি ধলেশ্বরী নদীর কল্যাণে অন্যতম প্রধান একটি নদী বন্দর ও বড় বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠলে জ্যোতি বাবু তাঁর ব্যবসাকে কলকাতা ও নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। সে যুগে নারায়ণগঞ্জ ও কলকাতার বড় বড় পাটকলগুলোর কাঁচামাল সরবরাহের একটি বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রিত হতো বেতিলার এই নদী বন্দর থেকে। লভ্যাংশের উদ্বৃত্ত পুঁজি দিয়ে তিনি তৎকালীন সংকটাপন্ন ও কর দিতে ব্যর্থ ব্রিটিশ আমলের সামন্ত প্রভুদের কাছ থেকে বড় বড় তালুক ও ভূসম্পত্তি ক্রয় করতে শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে এই অঞ্চলের স্থায়ী জমিদারি স্বত্ব লাভ করেন।

জ্যোতি বাবুর মৃত্যুর পর এই সুবিশাল এস্টেট ও জমিদারি পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেন তাঁর সুযোগ্য পরবর্তী প্রজন্মের উত্তরাধিকারী জমিদার সত্যেন্দ্র প্রসন্ন লাহিড়ী। এই সত্যেন্দ্র প্রসন্ন লাহিড়ীর আমলে বেতিলার এই সুবিশাল রাজপ্রাসাদ কমপ্লেক্সটি নির্মিত হয়, যার মূল কাঠামোতে ইউরোপীয় রেনেসাঁ এবং গ্রিক-রোমান কোরিন্থীয় স্থাপত্যশৈলীর এক জাঁকজমকপূর্ণ ও নিখুঁত সংমিশ্রণ দেখা যায়, যা দূর থেকেই ধলেশ্বরী নদী দিয়ে যাতায়াতকারী ব্রিটিশ রাজকর্মচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত।

এই জমিদার বংশের মূল সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিপত্তি গড়ে হয়েছিল তাঁদের সুবিশাল জায়গা-সম্পত্তি এবং অগাধ আঞ্চলিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে। তৎকালীন ব্রিটিশ রাজত্বের ঐতিহাসিক ও ভূ-রাজস্ব রেকর্ড অনুযায়ী, বেতিলার জমিদারদের ভূসম্পত্তির পরিমাণ ছিল বিশাল। তাঁদের মূল রাজপ্রাসাদ, বড় কাছারি প্রাঙ্গণ, ফলদ বাগান এবং পারিবারিক দিঘি মিলে কেবল বেতিলা গ্রামে অবস্থিত প্রধান আবাসিক এস্টেটটিই বিস্তৃত ছিল প্রায় সাতাশ একর বা কয়েকশত বিঘার ওপর।

এই জমিদারদের অধীনে সমগ্র মানিকগঞ্জ পরগনার এবং জাফরশাহী ও ধলেশ্বরী পরগনার সিংহভাগ আবাদি কৃষি জমি, বড় বড় ধান-পাটের হাট-বাজার এবং ধলেশ্বরী ও কালীগঙ্গা নদীর প্রধান প্রধান খেয়াঘাট অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাঁদের জমিদারি এস্টেটের সীমানা কেবল বেতিলা গ্রামে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ঢাকা জেলার সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ এবং ফরিদপুর জেলার কিছু অঞ্চলের বড় বড় কৃষি মহাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, যেখান থেকে বার্ষিক বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বা খাজনা আদায় হতো। এই সুবিশাল সম্পত্তির একক মালিক হওয়ার কারণে তৎকালীন গ্রামীণ সমাজে ও স্থানীয় বিচারব্যবস্থায় তাঁদের কথাই ছিল আইন এবং চূড়ান্ত শাসন।

প্রতিটি সামাজিক বিচার-শালিশ, সাধারণ মানুষের পারিবারিক বিয়ে-শাদি থেকে শুরু করে যেকোনো ধর্মীয় পার্বণ বা উৎসব জমিদারদের পূর্ব অনুমতি এবং সরাসরি সম্মতি ছাড়া বসার কোনো উপায় ছিল না। কাচারি ঘরে জমিদারের বসার অর্থই ছিল প্রজাদের ভাগ্য নির্ধারণ। তাঁদের নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনীর প্রতাপ ও প্রশাসনিক শক্তির প্রভাব এতটাই তীব্র ছিল যে, ব্রিটিশ কালেকশন অফিসাররাও এই অঞ্চলে রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে বেতিলার কাচারির ওপর বহুলাংশে নির্ভর করতেন এবং বালিয়াটি জমিদারদের মতোই তাঁরাও ঢাকার লর্ড, গভর্নর ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের নিজেদের প্রাসাদে এনে রাজকীয় আতিথেয়তার মাধ্যমে নিজেদের আভিজাত্য ও আঞ্চলিক ক্ষমতা প্রদর্শন করতেন।
স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে বেতিলা জমিদার বাড়িটি তৎকালীন গ্রিক-রোমান কোরিন্থীয় এবং ইউরোপীয় রেনেসাঁ স্থাপত্যের এক জাঁকজমকপূর্ণ ও নিখুঁত নিদর্শন। পুরো কমপ্লেক্সটি মূলত দুটি প্রধান দ্বিতল ভবনের সমন্বয়ে গঠিত, যা স্থানীয়ভাবে বড় তরফের বাড়ি এবং ছোট তরফের বাড়ি নামে পরিচিত।

ভবনগুলোর সম্মুখভাগে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে বিশালাকার এবং কারুকার্যময় সুউচ্চ স্তম্ভ বা কলাম, যা ভবনটিকে অত্যন্ত গম্ভীর ও রাজকীয় রূপ দান করেছে। প্রাসাদের দেয়ালগুলো চুন-সুরকি এবং বিশেষ ইটের মিশ্রণে প্রায় ২০ ইঞ্চি পুরু করে তৈরি করা হয়েছিল। প্রাসাদের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে সুদৃশ্য নাচঘর, বড় কাচারি কোঠা, সুরক্ষিত অন্দরমহল এবং রাজকীয় স্নানাগার ছিল। মূল ভবনের ঠিক পেছনেই রয়েছে একটি বিশাল শানবাঁধানো ঘাট বিশিষ্ট পুকুর বা দিঘি, যা জমিদার পরিবারের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত ছিল। পুরো প্রাসাদ চত্বরের চারপাশের সীমানা প্রাচীর এবং প্রবেশ তোরণগুলো এতটাই নান্দনিকভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে, তা দূর থেকেই ধলেশ্বরী নদী দিয়ে যাতায়াতকারী ব্রিটিশ রাজকর্মচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত। ভবনের ভেতরের সিঁড়ি ও বারান্দার রেলিং তৈরিতে ঢালাই লোহার জ্যামিতিক নকশা এবং ছাদের কড়িকাঠে উন্নতমানের কাঠের ব্যবহার দেখা যায়। এই প্রাসাদের ভেতরের কড়িকাঠ ও দরজা-জানালা তৈরিতে তৎকালীন সময়ে সুদূর বার্মা থেকে উন্নতমানের রাজকীয় সেগুন কাঠ আমদানি করা হয়েছিল এবং মেঝের কিছু অংশে কারুকার্যময় টাইলস বসানো হয়েছিল যা লখনউ থেকে

আনা কারিগরদের দ্বারা নিখুঁতভাবে নির্মিত হয়েছিল।তৎকালীন সমাজ সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বেতিলার জমিদারদের ভালো দিক ও অবদান ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে আধুনিক শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তাঁরা বেতিলাতে প্রাথমিক পাঠশালা এবং একটি উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় স্থাপন করেন, যা এই অঞ্চলের অনগ্রসর ও অবহেলিত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আধুনিক ইংরেজি ও বিজ্ঞান শিক্ষার আলো ছড়াতে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে।

এছাড়াও এলাকার সুপেয় পানির তীব্র সংকট দূর করতে তাঁরা প্রজাদের জন্য বেশ কয়েকটি গভীর পাতকুয়া ও দিঘি খনন করেন এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন। তবে সমসাময়িক সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার মতো তাঁদের শাসনব্যবস্থারও একটি কঠোর দিক ছিল। কর বা রাজস্ব আদায়ের নীতিতে তাঁরা অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক ও কঠোর ছিলেন; প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ফসলহানির সময়েও খাজনা আদায়ে তেমন কোনো শিথিলতা বা রেয়াত দেওয়া হতো না।
কাচারি ঘরে প্রজার খাজনা বকেয়া পড়লে জমিদারি বিধিমালা অনুযায়ী আবাদি জমি নিলাম বা ক্রোক করার মতো কড়া নীতি অবলম্বন করা হতো। তবে এই কঠোরতা মূলত কোনো অন্ধ অত্যাচার ছিল না, বরং তা ছিল এস্টেটের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও রাজকীয় কাঠামোকে টিকিয়ে রাখার একটি প্রশাসনিক কৌশল, যার মাধ্যমে তাঁরা মধ্যস্বত্বভোগীদের কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা কঠোর হস্তে দমন করতেন।

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বিশ্ব রাজনীতির পটপরিবর্তন এবং ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির পর এই গৌরবময় জমিদার বংশের পতনের ঘণ্টা বেজে ওঠে। সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে জমিদার সত্যেন্দ্র প্রসন্ন লাহিড়ী এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য উত্তরাধিকারীরা তাঁদের এই বিশাল ভূসম্পত্তি, কাচারি ও রাজপ্রাসাদ ফেলে সপরিবারে স্থায়ীভাবে ভারতে চলে যান। ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ আইন পাস হলে এটি সম্পূর্ণ সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। জমিদাররা চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ কয়েক দশক সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অবহেলার কারণে প্রাসাদের ভেতরের মূল্যবান আসবাবপত্র, কাঠের দরজা-জানালা এবং দেয়ালের অলঙ্করণ নষ্ট হয়ে যায়।

তবে আশার কথা হলো, বালিয়াটি প্রাসাদের মতো এটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই ঐতিহাসিক স্থানটিকে একটি সরকারি হাঁস-মুরগি প্রজনন খামার হিসেবে ব্যবহার করছে, যার ফলে মূল ভবনটি সম্পূর্ণ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং এর চমৎকার স্থাপত্যিক কাঠামোটি আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের তদারকিতে এর চারপাশের সীমানা ও বাগান কিছুটা সংস্কার করা হয়েছে, যা এই প্রত্নতাত্ত্বিক কাঠামোর আয়ুষ্কাল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফেসবুক লিংক –

https://www.facebook.com/share/p/1bX9PiRBBa

লেখকের সমাপনী ভাবনা-

ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে বেতিলা জমিদার বাড়ি আজ হয়তো তার আদি রাজকীয় সত্তা হারিয়েছে, কিন্তু তার জাঁকজমকপূর্ণ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ অতীত এ অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের এক অনন্য দলিল। এক সাধারণ পাট ও লবণ ব্যবসায়ীর মেধা ও রাজকীয় দূরদর্শিতার ওপর ভিত্তি করে যে সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন হয়েছিল, তা ক্ষমতার চিরন্তন নশ্বরতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। সাধারণ মানুষের ওপর কর আদায়ের প্রশাসনিক কঠোরতা আর জনকল্যাণের এক অদ্ভুত যুগলবন্দির প্রতীক হিসেবে এই ঐতিহাসিক স্থানটি আজও ধলেশ্বরীর তীরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ক্ষমতার বৈভব বিলীন হয়ে গেলেও অনন্য স্থাপত্যকর্ম যে অনন্তকাল বেঁচে থাকে, বেতিলা প্রাসাদ তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। এটি আজ অতীত ও বর্তমানের মধ্যে এক অনন্য সেতু হিসেবে আগামী প্রজন্মের কাছে সামন্তবাদের উত্থান-পতনের এক অনন্য দর্শনীয় বাতিঘর হয়ে টিকে থাকবে।

লেখক- পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার,দৈনিক নতুনদেশ ২৪,জেলা প্রতিনিধি দৈনিক ঢাকার ডাক।।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

তীব্র ভাঙনে দিশেহারা চরাঞ্চলের মানুষ-শেষ সম্বল ভিটামাটি হারিয়ে দিশেহারা শতাধিক পরিবার।

প্রমত্তা ধলেশ্বরী নদীর শান্ত ও স্নিগ্ধ শাখা খালের তীরে রেনেসাঁ স্থাপত্যের ছোঁয়া আর ধলেশ্বরীর বাণিজ্যিক বৈভবের ঐতিহাসিক জনপদ বেতিলা গ্রাম।

মানিকগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য: রেনেসাঁ স্থাপত্যের নিদর্শন বেতিলা জমিদার বাড়ির বৈভব

Update Time : ০৯:১৬:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

মানিকগঞ্জের বেতিলা জমিদার বাড়ির ইতিহাস, অগাধ প্রতিপত্তি, সম্পত্তির চুলচেরা বিবরণ ও আর্থ-সামাজিক ক্রমবিকাশের বিশদ মহানিবন্ধবাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত মানিকগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায়, প্রমত্তা ধলেশ্বরী নদীর একটি শান্ত ও স্নিগ্ধ শাখা খালের তীরে নদীবিধৌত এক ছায়াঘেরা ঐতিহাসিক জনপদ বেতিলা গ্রাম। মানিকগঞ্জ জেলা শহর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের অন্তর্গত এই প্রাচীন বেতিলা গ্রামটি এক সময় সমগ্র অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, সামন্ততান্ত্রিক ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক-প্রশাসনিক প্রভাব প্রদর্শনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।

ইতিহাস ও প্রাচীন রাজকীয় ভূ-রাজস্ব নথিপত্র গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এই বেতিলা জমিদার বংশ, তাঁদের রাজকীয় বৈভব, অনন্য স্থাপত্যশৈলী এবং ধলেশ্বরী নদীর বাণিজ্যিক রুটগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তাঁদের একচেটিয়া প্রতিপত্তি এ অঞ্চলের ইতিহাসের এক সুদীর্ঘ ও অকাট্য সাক্ষী হয়ে আজও টিকে রয়েছে।

বেতিলা জমিদার বংশের গোড়াপত্তন, সামাজিক বিকাশ এবং ক্ষমতার বিস্তৃতির পেছনের ইতিহাসটি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উনিশ শতকের পাট ও লবণের আন্তর্জাতিক ব্যবসার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

এই অঞ্চলে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বংশের আদি পুরুষ ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী জ্যোতি বাবু। তিনি শুরুতে অত্যন্ত দূরদর্শী এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, যিনি তৎকালীন সময়ে ধলেশ্বরী নদীর বাণিজ্যিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে লবণ ও কাঁচা পাটের ব্যবসায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেন।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বেতিলা অঞ্চলটি ধলেশ্বরী নদীর কল্যাণে অন্যতম প্রধান একটি নদী বন্দর ও বড় বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠলে জ্যোতি বাবু তাঁর ব্যবসাকে কলকাতা ও নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। সে যুগে নারায়ণগঞ্জ ও কলকাতার বড় বড় পাটকলগুলোর কাঁচামাল সরবরাহের একটি বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রিত হতো বেতিলার এই নদী বন্দর থেকে। লভ্যাংশের উদ্বৃত্ত পুঁজি দিয়ে তিনি তৎকালীন সংকটাপন্ন ও কর দিতে ব্যর্থ ব্রিটিশ আমলের সামন্ত প্রভুদের কাছ থেকে বড় বড় তালুক ও ভূসম্পত্তি ক্রয় করতে শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে এই অঞ্চলের স্থায়ী জমিদারি স্বত্ব লাভ করেন।

জ্যোতি বাবুর মৃত্যুর পর এই সুবিশাল এস্টেট ও জমিদারি পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেন তাঁর সুযোগ্য পরবর্তী প্রজন্মের উত্তরাধিকারী জমিদার সত্যেন্দ্র প্রসন্ন লাহিড়ী। এই সত্যেন্দ্র প্রসন্ন লাহিড়ীর আমলে বেতিলার এই সুবিশাল রাজপ্রাসাদ কমপ্লেক্সটি নির্মিত হয়, যার মূল কাঠামোতে ইউরোপীয় রেনেসাঁ এবং গ্রিক-রোমান কোরিন্থীয় স্থাপত্যশৈলীর এক জাঁকজমকপূর্ণ ও নিখুঁত সংমিশ্রণ দেখা যায়, যা দূর থেকেই ধলেশ্বরী নদী দিয়ে যাতায়াতকারী ব্রিটিশ রাজকর্মচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত।

এই জমিদার বংশের মূল সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিপত্তি গড়ে হয়েছিল তাঁদের সুবিশাল জায়গা-সম্পত্তি এবং অগাধ আঞ্চলিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে। তৎকালীন ব্রিটিশ রাজত্বের ঐতিহাসিক ও ভূ-রাজস্ব রেকর্ড অনুযায়ী, বেতিলার জমিদারদের ভূসম্পত্তির পরিমাণ ছিল বিশাল। তাঁদের মূল রাজপ্রাসাদ, বড় কাছারি প্রাঙ্গণ, ফলদ বাগান এবং পারিবারিক দিঘি মিলে কেবল বেতিলা গ্রামে অবস্থিত প্রধান আবাসিক এস্টেটটিই বিস্তৃত ছিল প্রায় সাতাশ একর বা কয়েকশত বিঘার ওপর।

এই জমিদারদের অধীনে সমগ্র মানিকগঞ্জ পরগনার এবং জাফরশাহী ও ধলেশ্বরী পরগনার সিংহভাগ আবাদি কৃষি জমি, বড় বড় ধান-পাটের হাট-বাজার এবং ধলেশ্বরী ও কালীগঙ্গা নদীর প্রধান প্রধান খেয়াঘাট অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাঁদের জমিদারি এস্টেটের সীমানা কেবল বেতিলা গ্রামে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ঢাকা জেলার সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ এবং ফরিদপুর জেলার কিছু অঞ্চলের বড় বড় কৃষি মহাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, যেখান থেকে বার্ষিক বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বা খাজনা আদায় হতো। এই সুবিশাল সম্পত্তির একক মালিক হওয়ার কারণে তৎকালীন গ্রামীণ সমাজে ও স্থানীয় বিচারব্যবস্থায় তাঁদের কথাই ছিল আইন এবং চূড়ান্ত শাসন।

প্রতিটি সামাজিক বিচার-শালিশ, সাধারণ মানুষের পারিবারিক বিয়ে-শাদি থেকে শুরু করে যেকোনো ধর্মীয় পার্বণ বা উৎসব জমিদারদের পূর্ব অনুমতি এবং সরাসরি সম্মতি ছাড়া বসার কোনো উপায় ছিল না। কাচারি ঘরে জমিদারের বসার অর্থই ছিল প্রজাদের ভাগ্য নির্ধারণ। তাঁদের নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনীর প্রতাপ ও প্রশাসনিক শক্তির প্রভাব এতটাই তীব্র ছিল যে, ব্রিটিশ কালেকশন অফিসাররাও এই অঞ্চলে রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে বেতিলার কাচারির ওপর বহুলাংশে নির্ভর করতেন এবং বালিয়াটি জমিদারদের মতোই তাঁরাও ঢাকার লর্ড, গভর্নর ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের নিজেদের প্রাসাদে এনে রাজকীয় আতিথেয়তার মাধ্যমে নিজেদের আভিজাত্য ও আঞ্চলিক ক্ষমতা প্রদর্শন করতেন।
স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে বেতিলা জমিদার বাড়িটি তৎকালীন গ্রিক-রোমান কোরিন্থীয় এবং ইউরোপীয় রেনেসাঁ স্থাপত্যের এক জাঁকজমকপূর্ণ ও নিখুঁত নিদর্শন। পুরো কমপ্লেক্সটি মূলত দুটি প্রধান দ্বিতল ভবনের সমন্বয়ে গঠিত, যা স্থানীয়ভাবে বড় তরফের বাড়ি এবং ছোট তরফের বাড়ি নামে পরিচিত।

ভবনগুলোর সম্মুখভাগে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে বিশালাকার এবং কারুকার্যময় সুউচ্চ স্তম্ভ বা কলাম, যা ভবনটিকে অত্যন্ত গম্ভীর ও রাজকীয় রূপ দান করেছে। প্রাসাদের দেয়ালগুলো চুন-সুরকি এবং বিশেষ ইটের মিশ্রণে প্রায় ২০ ইঞ্চি পুরু করে তৈরি করা হয়েছিল। প্রাসাদের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে সুদৃশ্য নাচঘর, বড় কাচারি কোঠা, সুরক্ষিত অন্দরমহল এবং রাজকীয় স্নানাগার ছিল। মূল ভবনের ঠিক পেছনেই রয়েছে একটি বিশাল শানবাঁধানো ঘাট বিশিষ্ট পুকুর বা দিঘি, যা জমিদার পরিবারের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত ছিল। পুরো প্রাসাদ চত্বরের চারপাশের সীমানা প্রাচীর এবং প্রবেশ তোরণগুলো এতটাই নান্দনিকভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে, তা দূর থেকেই ধলেশ্বরী নদী দিয়ে যাতায়াতকারী ব্রিটিশ রাজকর্মচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত। ভবনের ভেতরের সিঁড়ি ও বারান্দার রেলিং তৈরিতে ঢালাই লোহার জ্যামিতিক নকশা এবং ছাদের কড়িকাঠে উন্নতমানের কাঠের ব্যবহার দেখা যায়। এই প্রাসাদের ভেতরের কড়িকাঠ ও দরজা-জানালা তৈরিতে তৎকালীন সময়ে সুদূর বার্মা থেকে উন্নতমানের রাজকীয় সেগুন কাঠ আমদানি করা হয়েছিল এবং মেঝের কিছু অংশে কারুকার্যময় টাইলস বসানো হয়েছিল যা লখনউ থেকে

আনা কারিগরদের দ্বারা নিখুঁতভাবে নির্মিত হয়েছিল।তৎকালীন সমাজ সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বেতিলার জমিদারদের ভালো দিক ও অবদান ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে আধুনিক শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তাঁরা বেতিলাতে প্রাথমিক পাঠশালা এবং একটি উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় স্থাপন করেন, যা এই অঞ্চলের অনগ্রসর ও অবহেলিত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আধুনিক ইংরেজি ও বিজ্ঞান শিক্ষার আলো ছড়াতে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে।

এছাড়াও এলাকার সুপেয় পানির তীব্র সংকট দূর করতে তাঁরা প্রজাদের জন্য বেশ কয়েকটি গভীর পাতকুয়া ও দিঘি খনন করেন এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন। তবে সমসাময়িক সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার মতো তাঁদের শাসনব্যবস্থারও একটি কঠোর দিক ছিল। কর বা রাজস্ব আদায়ের নীতিতে তাঁরা অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক ও কঠোর ছিলেন; প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ফসলহানির সময়েও খাজনা আদায়ে তেমন কোনো শিথিলতা বা রেয়াত দেওয়া হতো না।
কাচারি ঘরে প্রজার খাজনা বকেয়া পড়লে জমিদারি বিধিমালা অনুযায়ী আবাদি জমি নিলাম বা ক্রোক করার মতো কড়া নীতি অবলম্বন করা হতো। তবে এই কঠোরতা মূলত কোনো অন্ধ অত্যাচার ছিল না, বরং তা ছিল এস্টেটের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও রাজকীয় কাঠামোকে টিকিয়ে রাখার একটি প্রশাসনিক কৌশল, যার মাধ্যমে তাঁরা মধ্যস্বত্বভোগীদের কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা কঠোর হস্তে দমন করতেন।

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বিশ্ব রাজনীতির পটপরিবর্তন এবং ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির পর এই গৌরবময় জমিদার বংশের পতনের ঘণ্টা বেজে ওঠে। সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে জমিদার সত্যেন্দ্র প্রসন্ন লাহিড়ী এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য উত্তরাধিকারীরা তাঁদের এই বিশাল ভূসম্পত্তি, কাচারি ও রাজপ্রাসাদ ফেলে সপরিবারে স্থায়ীভাবে ভারতে চলে যান। ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ আইন পাস হলে এটি সম্পূর্ণ সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। জমিদাররা চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ কয়েক দশক সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অবহেলার কারণে প্রাসাদের ভেতরের মূল্যবান আসবাবপত্র, কাঠের দরজা-জানালা এবং দেয়ালের অলঙ্করণ নষ্ট হয়ে যায়।

তবে আশার কথা হলো, বালিয়াটি প্রাসাদের মতো এটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই ঐতিহাসিক স্থানটিকে একটি সরকারি হাঁস-মুরগি প্রজনন খামার হিসেবে ব্যবহার করছে, যার ফলে মূল ভবনটি সম্পূর্ণ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং এর চমৎকার স্থাপত্যিক কাঠামোটি আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের তদারকিতে এর চারপাশের সীমানা ও বাগান কিছুটা সংস্কার করা হয়েছে, যা এই প্রত্নতাত্ত্বিক কাঠামোর আয়ুষ্কাল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফেসবুক লিংক –

https://www.facebook.com/share/p/1bX9PiRBBa

লেখকের সমাপনী ভাবনা-

ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে বেতিলা জমিদার বাড়ি আজ হয়তো তার আদি রাজকীয় সত্তা হারিয়েছে, কিন্তু তার জাঁকজমকপূর্ণ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ অতীত এ অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের এক অনন্য দলিল। এক সাধারণ পাট ও লবণ ব্যবসায়ীর মেধা ও রাজকীয় দূরদর্শিতার ওপর ভিত্তি করে যে সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন হয়েছিল, তা ক্ষমতার চিরন্তন নশ্বরতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। সাধারণ মানুষের ওপর কর আদায়ের প্রশাসনিক কঠোরতা আর জনকল্যাণের এক অদ্ভুত যুগলবন্দির প্রতীক হিসেবে এই ঐতিহাসিক স্থানটি আজও ধলেশ্বরীর তীরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ক্ষমতার বৈভব বিলীন হয়ে গেলেও অনন্য স্থাপত্যকর্ম যে অনন্তকাল বেঁচে থাকে, বেতিলা প্রাসাদ তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। এটি আজ অতীত ও বর্তমানের মধ্যে এক অনন্য সেতু হিসেবে আগামী প্রজন্মের কাছে সামন্তবাদের উত্থান-পতনের এক অনন্য দর্শনীয় বাতিঘর হয়ে টিকে থাকবে।

লেখক- পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার,দৈনিক নতুনদেশ ২৪,জেলা প্রতিনিধি দৈনিক ঢাকার ডাক।।