মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় এক খণ্ডকালীন আয়ার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় কিছু লোক। আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার আমতলী ফেদু শেখ উচ্চ বিদ্যালয় ভবনের ভেতর থেকে তাদের অবরুদ্ধ করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকেই শিক্ষকের শুভাকাঙ্ক্ষীরা দাবি করছেন, অভ্যন্তরীণ কোনো কোন্দল বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলে ‘মব জাস্টিস’ বা জনতার ঢাল ব্যবহার করে হেনস্তা ও ফাঁসানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী ফেদু শেখ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান শুক্রবার সকালে দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিদ্যালয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণ পর বিদ্যালয়ের এক খণ্ডকালীন আয়াও সেখানে প্রবেশ করেন। ছুটির দিনে তাদের উপস্থিতি দেখে স্থানীয় কয়েকজন যুবক বিদ্যালয় ভবনের একটি কক্ষে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্কুল প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমান।
ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন অনেকেই। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি, প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের সততা ও কঠোর প্রশাসনিক অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একটি মহল তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। শুক্রবার ছুটির দিনে তাকে একাকী পেয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আয়াকে ব্যবহার করে এই নাটক সাজানো হয়েছে। কোনো শক্ত প্রমাণ বা তদন্ত ছাড়াই হুট করে দলবদ্ধ হয়ে ‘মব’ বা উত্তেজিত জনতার তকমা লাগিয়ে শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার এই চেষ্টাকে তারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
উত্তেজনা বাড়ার একপর্যায়ে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা দ্রুত থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষক ও আয়াকে উদ্ধার করে নিরাপদে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।
থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটি অনৈতিক সম্পর্ক নাকি কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বা ফাঁসানোর চেষ্টা, তা সুনির্দিষ্ট তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে ও ঘটনার সত্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 















