গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ সংস্কৃতি তুলে ধরতে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ইছামতি নদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল মনোজ্ঞ ও ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। দীর্ঘ ১২ বছর পর আয়োজিত এই নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয় এবং নদীপাড়ে লক্ষাধিক দর্শনার্থীর ঢল নামে।
ঘিওর উপজেলার কাঞ্চনপুর ও বাল্লা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা ইছামতি নদীর দুই পাড়ে আজ সকাল থেকেই মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। দুপুরের পর থেকে মানিকগঞ্জ জেলা ছাড়াও আশেপাশের টাঙ্গাইল, ঢাকা ও সিরাজগঞ্জ থেকে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থী নদীর দুই তীরে অবস্থান নেন। অনেকে আবার ট্রলার ও নৌকা ভাড়া করে সপরিবারে এই আনন্দ উপভোগ করতে আসেন। বাইচ শুরু হতেই খোল-করতাল আর কাঁসার ঘণ্টার শব্দের সঙ্গে ‘হৈ হৈ’ বাদ্য ও মাঝিমাল্লাদের কণ্ঠের সারি গান পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
এবারের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে আসা ছোট-বড় ৭টি বাহারি সাজের ঘাসি ও কোশা নৌকা অংশ নেয়। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত পর্বে সবাইকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ‘সোনার চান ২’ নামের নৌকাটি। প্রতিযোগিতা শেষে আমন্ত্রিত অতিথি ও আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বিজয়ী এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজনে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রবীণ এক দর্শক জানান যে, এক সময় এই নদীতে নিয়মিত নৌকা বাইচ হতো, যা কালের বিবর্তনে প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ১২ বছর পর আবার এই বাইচ দেখে তার শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে গেছে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রামীণ সংস্কৃতির এই ধারা বজায় রাখতে এবং যুবসমাজকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ বিনোদনে ব্যস্ত রাখতে প্রতি বছরই এই ইছামতি নদীতে নৌকা বাইচের আয়োজন ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 















