০৩:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাকৃত সীমানার বাইরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

মানিকগঞ্জ বালুমহালের সীমানার বাইরে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাকৃত সীমানার বাইরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে গত ১৭ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ‘জুলাই যোদ্ধা, মানিকগঞ্জ জেলা শাখা’র প্রতিনিধিরা। অভিযোগে লেছড়াগঞ্জ, সুতালড়ী, বয়ড়া ও কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ইজারার নির্ধারিত সীমানার বাইরে ১৬টি ড্রেজার দিয়ে দিনরাত বালু উত্তোলনের দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে পদ্মার তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন বেড়েছে। গত কয়েক দিনে লেছড়াগঞ্জ ও সুতালড়ী এলাকার বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি, বসতভিটা ও জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে চরাঞ্চলের বহু পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে।

লিখিত অভিযোগে ইজারাকৃত সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন বন্ধ, ড্রেজার জব্দ, ইজারা চুক্তি বাতিল এবং সরকারি ও জনসম্পদের ক্ষতির অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনারও দাবি করেন অভিযোগকারীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মার তীরবর্তী ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাদার মো. বিল্লাল খান। তিনি বলেন, “আমি ইজারার সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন করি না। আমার বিরুদ্ধে কিছু মানুষ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে।”

এদিকে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “আমি কিছুদিন আগেও অভিযান পরিচালনা করে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করেছি। আমরা আবারও অভিযান পরিচালনা করব এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

তীব্র ভাঙনে দিশেহারা চরাঞ্চলের মানুষ-শেষ সম্বল ভিটামাটি হারিয়ে দিশেহারা শতাধিক পরিবার।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাকৃত সীমানার বাইরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

মানিকগঞ্জ বালুমহালের সীমানার বাইরে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

Update Time : ১২:৪২:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাকৃত সীমানার বাইরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে গত ১৭ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ‘জুলাই যোদ্ধা, মানিকগঞ্জ জেলা শাখা’র প্রতিনিধিরা। অভিযোগে লেছড়াগঞ্জ, সুতালড়ী, বয়ড়া ও কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ইজারার নির্ধারিত সীমানার বাইরে ১৬টি ড্রেজার দিয়ে দিনরাত বালু উত্তোলনের দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে পদ্মার তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন বেড়েছে। গত কয়েক দিনে লেছড়াগঞ্জ ও সুতালড়ী এলাকার বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি, বসতভিটা ও জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে চরাঞ্চলের বহু পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে।

লিখিত অভিযোগে ইজারাকৃত সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন বন্ধ, ড্রেজার জব্দ, ইজারা চুক্তি বাতিল এবং সরকারি ও জনসম্পদের ক্ষতির অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনারও দাবি করেন অভিযোগকারীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মার তীরবর্তী ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাদার মো. বিল্লাল খান। তিনি বলেন, “আমি ইজারার সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন করি না। আমার বিরুদ্ধে কিছু মানুষ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে।”

এদিকে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “আমি কিছুদিন আগেও অভিযান পরিচালনা করে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করেছি। আমরা আবারও অভিযান পরিচালনা করব এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”