স্বামী বিদেশে থাকার পরও তার বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি ও মারধরের মিথ্যা মামলা করার অপরাধে এক গৃহবধূকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে মানিকগঞ্জের সিংগাইর আমলী আদালতের বিচারক এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই গৃহবধূর নাম মিতু আক্তার (ছদ্মনাম/আসল নাম যুক্ত করতে পারেন)। তবে রায় ঘোষণার পর আপিলের শর্তে আদালত তাকে এক মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন।
আদালত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আসামি গৃহবধূর স্বামী দীর্ঘ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত আছেন। পারিবারিক কলহের জেরে গত বছর ওই গৃহবধূ তার প্রবাসী স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে সিংগাইর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্ত ও দীর্ঘ শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে, ঘটনার কথিত সময়ে স্বামী দেশে ছিলেনই না, বরং তিনি প্রবাসে কর্মরত ছিলেন। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে হয়রানি করতেই এই কাল্পনিক ও মিথ্যা মামলাটি সাজানো হয়েছিল।
বাদীর দায়ের করা অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় এবং আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপরাধে বিজ্ঞ বিচারক দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুযায়ী মামলা পরিচালনাকারী ওই স্ত্রীকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি বার্তা যাবে যে, আইনি সুরক্ষার অপব্যবহার করে কাউকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করলে উল্টো নিজেকেই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট।”
অন্যদিকে, রায় ঘোষণার পরপরই সাজাপ্রাপ্ত গৃহবধূর পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করার আবেদন জানালে আদালত শর্তসাপেক্ষে তাকে এক মাসের জামিন প্রদান করেন। এই ঘটনাটি নিয়ে পুরো সিংগাইর উপজেলা ও আদালত চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 















