স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কঠোর সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কারাগারের অভ্যন্তরের অতি-গোপনীয় কারাকক্ষের ছবি, বন্দিদের আনা-নেওয়ার সংবেদনশীল ভিডিও ফেসবুক, টিকটক এবং ইউটিউবের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে কারা অধিদপ্তর। দাপ্তরিক বিধি-নিষেধ ও শৃঙ্খলা অমান্য করার সুনির্দিষ্ট দায়ে মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে কর্মরত প্রায় ৫০ জন পুরুষ ও নারী কারারক্ষীকে জরুরি ভিত্তিতে তলব করা হয়েছে। আজ ২ আগস্ট ২০২৬, রবিবার সকাল ৯টায় তাঁদের ঢাকার বকশীবাজারে অবস্থিত কারা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশ মোতাবেক আজ সকাল থেকেই অভিযুক্ত কারারক্ষীদের উপস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কারা গোয়েন্দা শাখা (প্রিজন্স ইন্টেলিজেন্স) দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছিল। গোেন্দা অনুসন্ধানে দেখা যায়, কিছু সংখ্যক কারারক্ষী ডিউটিরত অবস্থায় ও কারাগারের ভেতরে অবৈধভাবে স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন। তাঁরা বিভিন্ন হাই-প্রোফাইল বন্দিদের আদালতে বা হাসপাতালে আনা-নেওয়ার সময় সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে থাকা দৃশ্য ধারণ করছেন। এমনকি কারাগারের ব্যারাক ও অতি-গোপনীয় কারাকক্ষের ভেতরের দৃশ্য ভিডিও করে নিজেদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি বা টিকটক অ্যাকাউন্টে ভিউ ও ফলোয়ার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আপলোড করছেন। বিষয়টি সরকারি চাকরির কঠোর শৃঙ্খলা ভঙ্গের পাশাপাশি কারাগারের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই গোয়েন্দা অনুসন্ধানের প্রাথমিক তালিকায় মানিকগঞ্জ, রাজশাহী, গাজীপুরের কাশিমপুর এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের এই ৫০ জন রক্ষীর নাম উঠে আসে।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কারারক্ষীদের আজ সকাল থেকে আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রিজন্স ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের কর্মকর্তারা তাঁদের সামাজিক মাধ্যমের আইডি, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং সেসব আইডিতে আপলোড করা ভিডিওর উৎস পরীক্ষা করে দেখছেন। তদন্ত কমিটি জানার চেষ্টা করছে যে, এই ছবি বা ভিডিও ফাঁসের পেছনে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অসচেতনতা দায়ী নাকি এর আড়ালে কোনো বন্দির তথ্য পাচারের বড় কোনো চক্র কাজ করছে।
কারা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, কারাগার একটি স্পর্শকাতর ও অতি-নিরাপত্তা বেষ্টিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এখানকার অভ্যন্তরীণ কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া আপডেট অনুযায়ী, তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন রক্ষীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ভঙ্গের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। এ ঘটনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দোষী প্রমাণিত কারারক্ষীদের চাকরিচ্যুতি বা বাধ্যতামূলক অবসরের মতো কঠোর বিভাগীয় ও আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 
















