০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

হরিরামপুরে ভূয়া সমন্বয়কারী পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ: মানববন্ধনের জেরে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় ভূয়া সমন্বয়কারী পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি, জমি দখল ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ উঠেছে সোহেল রানা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে মানববন্ধন করায় উল্টো মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত সোহেল রানা হরিরামপুর উপজেলার বয়রা ইউনিয়নের আন্দারমানিক গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি নিজেকে এনসিপির অঙ্গসংগঠন শ্রমিক উইংয়ের মানিকগঞ্জ জেলা প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে তার এ ধরনের কোনো পদ-পদবীর আনুষ্ঠানিক সত্যতা পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দৃশ্যমান কোনো পেশা না থাকলেও সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী পরিচয়ে সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। এমনকি মাদক সেবন ও বিক্রির সাথেও তার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

৫ আগস্টের পর থেকে তিনি হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রাণিসম্পদ অফিস, সমাজসেবা অফিস ও এসিল্যান্ড অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে অসদাচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সমাজসেবা অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“সোহেল রানার আচরণে আমরা অতিষ্ঠ। বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।”

চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি, ভূমি দখল ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে গত ৭ সেপ্টেম্বর হরিরামপুরবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই মানববন্ধনের তিন দিন পরেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইমদাদুল হক (শাহীন), শাফিয়া বেগমসহ মোট ৮ জন ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে গতবছর ১০ অক্টোবর  সি আর মামলা নং-২৬৯/২০২৫ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করে।

মামলায় ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও সোহেল রানার পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হলেও ভুক্তভোগীরা একে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

মামলার সাক্ষী মোবারক হোসেন জানান,
“আমি এই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানি না।”

উপজেলা অটো গ্যারেজের দোকানদার আনোয়ার হোসেন বলেন,
“এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, আমি জানি না বা দেখিওনি।”

ভুক্তভোগী শাফিয়া বেগম বলেন,
“আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

বয়রা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর সদস্য ইমদাদুল হক (শাহীন) বলেন,
“সমন্বয়কারী পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে।”

৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মিরাজ মিয়া জানান,
“সোহেল রানার অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

ভুক্তভোগী লিটন বলেন,
“মানববন্ধন করার তিন দিনের মাথায় সোহেল রানা তার স্ত্রীকে ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। আমি কোনো হামলা বা ভাঙচুরের সাথে জড়িত নই।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ভূয়া সমন্বয়কারী পরিচয়ে সোহেল রানা শান্ত হরিরামপুরে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহেল রানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

এ বিষয়ে এনসিপির মানিকগঞ্জ জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী জাহিদ তালুকদার বলেন, সোহেল রানা শ্রমিক উইংয়ের যে পরিচয় দেয় তার সাথে মানিকগঞ্জ জেলা এনসিপির কোন সম্পৃক্ততা নাই। কারন সে মূলত খেলাফত মজলিস করে। সে একজন অনুপ্রবেশকারী। ইতিমধ্যেই শ্রমিক উইং ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমুল আরা সুলতানা  জানান, বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না।বিষয়টি খতিয়ে দেখে অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মানিকগঞ্জে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সমাবেশ অনুষ্ঠিত ।

হরিরামপুরে ভূয়া সমন্বয়কারী পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ: মানববন্ধনের জেরে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা

Update Time : ১২:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় ভূয়া সমন্বয়কারী পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি, জমি দখল ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ উঠেছে সোহেল রানা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে মানববন্ধন করায় উল্টো মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত সোহেল রানা হরিরামপুর উপজেলার বয়রা ইউনিয়নের আন্দারমানিক গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি নিজেকে এনসিপির অঙ্গসংগঠন শ্রমিক উইংয়ের মানিকগঞ্জ জেলা প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে তার এ ধরনের কোনো পদ-পদবীর আনুষ্ঠানিক সত্যতা পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দৃশ্যমান কোনো পেশা না থাকলেও সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী পরিচয়ে সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। এমনকি মাদক সেবন ও বিক্রির সাথেও তার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

৫ আগস্টের পর থেকে তিনি হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রাণিসম্পদ অফিস, সমাজসেবা অফিস ও এসিল্যান্ড অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে অসদাচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সমাজসেবা অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“সোহেল রানার আচরণে আমরা অতিষ্ঠ। বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।”

চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি, ভূমি দখল ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে গত ৭ সেপ্টেম্বর হরিরামপুরবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই মানববন্ধনের তিন দিন পরেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইমদাদুল হক (শাহীন), শাফিয়া বেগমসহ মোট ৮ জন ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে গতবছর ১০ অক্টোবর  সি আর মামলা নং-২৬৯/২০২৫ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করে।

মামলায় ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও সোহেল রানার পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হলেও ভুক্তভোগীরা একে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

মামলার সাক্ষী মোবারক হোসেন জানান,
“আমি এই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানি না।”

উপজেলা অটো গ্যারেজের দোকানদার আনোয়ার হোসেন বলেন,
“এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, আমি জানি না বা দেখিওনি।”

ভুক্তভোগী শাফিয়া বেগম বলেন,
“আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

বয়রা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর সদস্য ইমদাদুল হক (শাহীন) বলেন,
“সমন্বয়কারী পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে।”

৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মিরাজ মিয়া জানান,
“সোহেল রানার অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

ভুক্তভোগী লিটন বলেন,
“মানববন্ধন করার তিন দিনের মাথায় সোহেল রানা তার স্ত্রীকে ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। আমি কোনো হামলা বা ভাঙচুরের সাথে জড়িত নই।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ভূয়া সমন্বয়কারী পরিচয়ে সোহেল রানা শান্ত হরিরামপুরে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহেল রানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

এ বিষয়ে এনসিপির মানিকগঞ্জ জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী জাহিদ তালুকদার বলেন, সোহেল রানা শ্রমিক উইংয়ের যে পরিচয় দেয় তার সাথে মানিকগঞ্জ জেলা এনসিপির কোন সম্পৃক্ততা নাই। কারন সে মূলত খেলাফত মজলিস করে। সে একজন অনুপ্রবেশকারী। ইতিমধ্যেই শ্রমিক উইং ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমুল আরা সুলতানা  জানান, বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না।বিষয়টি খতিয়ে দেখে অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করছি।