০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ জন শিক্ষক থাকলেও মাত্র ১ জন পাস, হরিরামপুরের শিরীন আলী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র ক্ষোভ

৬ শিক্ষকের ৫ পরীক্ষার্থী, তবু ৪ জন ফেল: হরিরামপুরে স্কুলের ফলাফল বিপর্যয়

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিরীন আলী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের চলতি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ১০ আগস্ট প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টিতে ৬ জন নিয়মিত শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ জনই অকৃতকার্য (ফেল) হয়েছে।বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ বা নিবন্ধন করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ জন। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী ৪ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন পাস করতে পেরেছে এবং ৩ জনই ফেল করেছে। পূর্বের ভুল ও অনুপস্থিতি মিলিয়ে মোট ৫ জনের বিপরীতে ৪ জনের এই ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে ফুঁসছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকেরা।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, যেখানে শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষকের সংখ্যা বেশি, সেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর ওপর নিবিড় ও বিশেষ নজর রাখার সুযোগ ছিল। কিন্তু শিক্ষকদের চরম গাফিলতি, নিয়মিত তদারকির অভাব এবং পাঠদানের দুর্বল পরিবেশের কারণেই এমন লজ্জাজনক ফলাফল এসেছে।ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, “এ বছর ৫ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হলেও ১ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। বাকি ৪ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন পাস করেছে।”

ফলাফল যে অত্যন্ত হতাশাজনক হয়েছে তা মেনে নিয়ে তিনি জানান, শিক্ষার মানোন্নয়নে খুব দ্রুতই অভিভাবকদের নিয়ে একটি জরুরি সমাবেশ ডাকা হবে।এই বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হানিফা জানিয়েছেন, যেসব বিদ্যালয়ের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি, তাদের অফিসিয়ালি সতর্ক করা হবে।

পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয় সভায় এই বিপর্যয় নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই নজিরবিহীন ফলাফলের পর বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন হরিরামপুর উপজেলার সচেতন নাগরিকেরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

তীব্র ভাঙনে দিশেহারা চরাঞ্চলের মানুষ-শেষ সম্বল ভিটামাটি হারিয়ে দিশেহারা শতাধিক পরিবার।

৬ জন শিক্ষক থাকলেও মাত্র ১ জন পাস, হরিরামপুরের শিরীন আলী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র ক্ষোভ

৬ শিক্ষকের ৫ পরীক্ষার্থী, তবু ৪ জন ফেল: হরিরামপুরে স্কুলের ফলাফল বিপর্যয়

Update Time : ১০:৩৭:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিরীন আলী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের চলতি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ১০ আগস্ট প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টিতে ৬ জন নিয়মিত শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ জনই অকৃতকার্য (ফেল) হয়েছে।বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ বা নিবন্ধন করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ জন। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী ৪ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন পাস করতে পেরেছে এবং ৩ জনই ফেল করেছে। পূর্বের ভুল ও অনুপস্থিতি মিলিয়ে মোট ৫ জনের বিপরীতে ৪ জনের এই ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে ফুঁসছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকেরা।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, যেখানে শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষকের সংখ্যা বেশি, সেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর ওপর নিবিড় ও বিশেষ নজর রাখার সুযোগ ছিল। কিন্তু শিক্ষকদের চরম গাফিলতি, নিয়মিত তদারকির অভাব এবং পাঠদানের দুর্বল পরিবেশের কারণেই এমন লজ্জাজনক ফলাফল এসেছে।ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, “এ বছর ৫ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হলেও ১ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। বাকি ৪ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন পাস করেছে।”

ফলাফল যে অত্যন্ত হতাশাজনক হয়েছে তা মেনে নিয়ে তিনি জানান, শিক্ষার মানোন্নয়নে খুব দ্রুতই অভিভাবকদের নিয়ে একটি জরুরি সমাবেশ ডাকা হবে।এই বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হানিফা জানিয়েছেন, যেসব বিদ্যালয়ের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি, তাদের অফিসিয়ালি সতর্ক করা হবে।

পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয় সভায় এই বিপর্যয় নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই নজিরবিহীন ফলাফলের পর বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন হরিরামপুর উপজেলার সচেতন নাগরিকেরা।