০২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রতিবেদন প্রকাশের পরও বন্ধ হয়নি দুর্নীতি

প্রতিবেদন প্রকাশের পরও থামেনি শিমুলিয়া ভূমি অফিসের অনিয়ম, ভেতরে চেয়ার পেতে বসেছে দালাল।

ঢাকার সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিয়মবহির্ভূতভাবে এক বহিরাগত ব্যক্তির দাপ্তরিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও অদৃশ্য ইশারায় ভূমি অফিসের ভেতরে রীতিমতো চেয়ার-টেবিল বসিয়ে দালালির অবস্থান আরও মজবুত করেছেন অভিযুক্ত স্বপন নামের ওই ব্যক্তি।

​ভূমি অফিসের নিয়মিত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে তিনি কীভাবে অফিসে অবাধে যাতায়াত করছেন এবং সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

​স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না। বরং অফিসে একটি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র তৈরি করে স্বপনকে দিয়েই যাবতীয় কাজ করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি ভূমি অফিসের নায়েব নাছির উদ্দীনের ঠিক পাশেই বসে তাকে দাপ্তরিক ফাইলপত্র নাড়াচাড়া ও কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, নায়েব নাসির উদ্দিনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্মতিতেই এই দালালের রাজত্ব চলছে।

​এ বিষয়ে নায়েব নাসির উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি কোনো পদ বা বৈধ অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও একজন বহিরাগত ব্যক্তি কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে নিয়মিত বসে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করেন, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নাড়াচাড়া করেন এবং সেবাগ্রহীতাদের জমির ফাইল দেখেন?

​নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধসহ জরুরি কাজের জন্য সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে তার শরণাপন্ন হচ্ছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেবাগ্রহীতারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে সরাসরি সরকারি মূল্যে সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও, এমন অননুমোদিত হস্তক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের হয়রানি ও দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

​অনতিবিলম্বে এই সিন্ডিকেট ও বহিরাগত ব্যক্তির দৌরাত্ম্য বন্ধে এবং সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি সরকারি নিয়মে নির্বিঘ্নে ভূমিসেবা পেতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

​এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব নাছির উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে। এছাড়া অভিযুক্ত স্বপনের বক্তব্যও এখনো পাওয়া যায়নি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

জনসেবার অঙ্গীকার নিয়ে সুতালড়ী চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান হায়দার খান।

প্রতিবেদন প্রকাশের পরও বন্ধ হয়নি দুর্নীতি

প্রতিবেদন প্রকাশের পরও থামেনি শিমুলিয়া ভূমি অফিসের অনিয়ম, ভেতরে চেয়ার পেতে বসেছে দালাল।

Update Time : ০৮:০১:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিয়মবহির্ভূতভাবে এক বহিরাগত ব্যক্তির দাপ্তরিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও অদৃশ্য ইশারায় ভূমি অফিসের ভেতরে রীতিমতো চেয়ার-টেবিল বসিয়ে দালালির অবস্থান আরও মজবুত করেছেন অভিযুক্ত স্বপন নামের ওই ব্যক্তি।

​ভূমি অফিসের নিয়মিত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে তিনি কীভাবে অফিসে অবাধে যাতায়াত করছেন এবং সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

​স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না। বরং অফিসে একটি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র তৈরি করে স্বপনকে দিয়েই যাবতীয় কাজ করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি ভূমি অফিসের নায়েব নাছির উদ্দীনের ঠিক পাশেই বসে তাকে দাপ্তরিক ফাইলপত্র নাড়াচাড়া ও কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, নায়েব নাসির উদ্দিনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্মতিতেই এই দালালের রাজত্ব চলছে।

​এ বিষয়ে নায়েব নাসির উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি কোনো পদ বা বৈধ অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও একজন বহিরাগত ব্যক্তি কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে নিয়মিত বসে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করেন, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নাড়াচাড়া করেন এবং সেবাগ্রহীতাদের জমির ফাইল দেখেন?

​নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধসহ জরুরি কাজের জন্য সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে তার শরণাপন্ন হচ্ছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেবাগ্রহীতারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে সরাসরি সরকারি মূল্যে সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও, এমন অননুমোদিত হস্তক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের হয়রানি ও দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

​অনতিবিলম্বে এই সিন্ডিকেট ও বহিরাগত ব্যক্তির দৌরাত্ম্য বন্ধে এবং সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি সরকারি নিয়মে নির্বিঘ্নে ভূমিসেবা পেতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

​এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব নাছির উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে। এছাড়া অভিযুক্ত স্বপনের বক্তব্যও এখনো পাওয়া যায়নি।