১০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় গরুর মাংস হিসেবে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল চক্রটির, হাতেনাতে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা।

মানিকগঞ্জে ১৩টি ঘোড়া জবাই: ঢাকার হোটেলে মাংস সরবরাহের প্রস্তুতিকালে ৯ জনের কারাদন্ড

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত কারখানার গোডাউনে অত্যন্ত অমানবিক ও নিষ্ঠুর উপায়ে ১৩টি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় হাতেনাতে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মাংস ঢাকার যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার খাবার হোটেল-রেস্তোরাঁয় গরুর মাংস হিসেবে সরবরাহের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছিল। আজ দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অপরাধীদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জাগীর এলাকার ‘হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর একটি পরিত্যক্ত কারখানার গোডাউনে অভিযান চালায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, অত্যন্ত অমানবিক উপায়ে ঘোড়াগুলোকে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে জবাই করা হচ্ছে এবং মাংস কাটার কাজ চলছে। ঘটনাস্থল থেকে ১৩টি জবাই করা ঘোড়ার দেহাবশেষ এবং ১টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাংস কাটার সরঞ্জাম জব্দসহ হাতেনাতে ৯ জনকে আটক করে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছে, সিংগাইর উপজেলার হিরু নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে তারা এই কাজ করছিল। উদ্ধারকৃত ঘোড়ার মাংসগুলো ঢাকার যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁয় গরু ও মহিষের মাংস হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এই চক্রের মূল সমন্বয়কারী মিজানুর রহমানের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদরের পূর্ব দাশড়া এলাকায়।

আজ বুধবার দুপুরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিক্তা খাতুন ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে মূল সমন্বয়কারী মিজানুর রহমানকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণে জড়িত বাকি ৮ সহযোগীকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত ৯ আসামিকে ইতিমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের মূল হোতা হিরুসহ পর্দার আড়ালের বাকি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে জেলাজুড়ে এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম চাঞ্চল্য, ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকার হোটেলগুলোতে মাংসের মান ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকেরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা: মানিকগঞ্জে টয়লেটে মাংস ধোয়ার অপরাধে ৩ বিরিয়ানি হাউজ সিলগালা ও জরিমানা

ঢাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় গরুর মাংস হিসেবে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল চক্রটির, হাতেনাতে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা।

মানিকগঞ্জে ১৩টি ঘোড়া জবাই: ঢাকার হোটেলে মাংস সরবরাহের প্রস্তুতিকালে ৯ জনের কারাদন্ড

Update Time : ০৪:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত কারখানার গোডাউনে অত্যন্ত অমানবিক ও নিষ্ঠুর উপায়ে ১৩টি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় হাতেনাতে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মাংস ঢাকার যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার খাবার হোটেল-রেস্তোরাঁয় গরুর মাংস হিসেবে সরবরাহের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছিল। আজ দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অপরাধীদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জাগীর এলাকার ‘হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর একটি পরিত্যক্ত কারখানার গোডাউনে অভিযান চালায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, অত্যন্ত অমানবিক উপায়ে ঘোড়াগুলোকে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে জবাই করা হচ্ছে এবং মাংস কাটার কাজ চলছে। ঘটনাস্থল থেকে ১৩টি জবাই করা ঘোড়ার দেহাবশেষ এবং ১টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাংস কাটার সরঞ্জাম জব্দসহ হাতেনাতে ৯ জনকে আটক করে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছে, সিংগাইর উপজেলার হিরু নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে তারা এই কাজ করছিল। উদ্ধারকৃত ঘোড়ার মাংসগুলো ঢাকার যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁয় গরু ও মহিষের মাংস হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এই চক্রের মূল সমন্বয়কারী মিজানুর রহমানের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদরের পূর্ব দাশড়া এলাকায়।

আজ বুধবার দুপুরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিক্তা খাতুন ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে মূল সমন্বয়কারী মিজানুর রহমানকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণে জড়িত বাকি ৮ সহযোগীকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত ৯ আসামিকে ইতিমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের মূল হোতা হিরুসহ পর্দার আড়ালের বাকি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে জেলাজুড়ে এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম চাঞ্চল্য, ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকার হোটেলগুলোতে মাংসের মান ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকেরা।