১০:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে জামাই, ধস্তাধস্তি ও লাথির আঘাতে শ্বশুর নিহত, অভিযুক্ত রাসেল পুলিশ হেফাজতে।

মানিকগঞ্জে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ল জামাই, ধস্তাধস্তি ও লাথিতে শ্বশুরের মৃত্যু

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নিজের শ্বশুরের অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন মেয়ের জামাই। এ সময় চুরির ঘটনা নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জামাইয়ের সজোরে মারা লাথির আঘাতে শ্বশুর সিদ্দিক আলী (৪৮) নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের সাকরাইল গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। নিহত সিদ্দিক আলী ওই এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। অভিযুক্ত জামাইয়ের নাম রাসেল (২৭)।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মধ্যরাতে সিদ্দিক আলীর বসতঘরের পাশে রাখা অটোরিকশা (হ্যালো বাইক) থেকে ব্যাটারি ও চার্জার খোলার চেষ্টা করছিল এক চোর। এ সময় অটোরিকশার কাছ থেকে অস্বাভাবিক শব্দ পেয়ে সিদ্দিক আলীর ছেলে পরিবারের সবাইকে সজাগ করেন। সিদ্দিক আলী ও তার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে অন্ধকারের মধ্যে চোর সন্দেহে ওই ব্যক্তিকে জাপটে ধরেন। পরে আলো এনে ভালো করে দেখার পর তারা স্তব্ধ হয়ে যান—কারণ চোরটি অন্য কেউ নয়, স্বয়ং সিদ্দিক আলীর নিজের মেয়ের জামাই রাসেল।

চুরির বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ার পর জামাই রাসেলের সঙ্গে শ্বশুর সিদ্দিক আলী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের তীব্র কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে রাসেল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার শ্বশুর সিদ্দিক আলীকে লক্ষ্য করে সজোরে লাথি মারেন। রাসেলের লাথি সরাসরি সিদ্দিক আলীর অণ্ডকোষে গিয়ে লাগে। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তাৎক্ষণিক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা এবং প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী রুনা বেগম জানান, তার ছেলে প্রথমে হ্যালো বাইকের কাছে শব্দ পেয়ে চোর বলে চিৎকার দেয়। পরে তারা চোরকে ধরে দেখেন সে তাদের মেয়ের জামাই রাসেল। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে রাসেল তার স্বামীকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। রাসেলের সঙ্গে শাওন নামে আরও একজন জড়িত ছিল উল্লেখ করে তিনি এই অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে সিদ্দিক আলীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত জামাই রাসেলকে ঘটনাস্থলেই আটকে রেখে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত সাকরাইল গ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাসেলকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। স্থানীয়দের মারধরে আহত হওয়ায় রাসেলকে পুলিশের নজরদারিতে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনা নিয়ে ধস্তাধস্তির সময় লাথির আঘাতে সিদ্দিক আলী নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন এবং অভিযুক্ত রাসেল নিহতের মেয়ের জামাই। ঘটনার বিস্তারিত ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করেছে এবং এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা: মানিকগঞ্জে টয়লেটে মাংস ধোয়ার অপরাধে ৩ বিরিয়ানি হাউজ সিলগালা ও জরিমানা

অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে জামাই, ধস্তাধস্তি ও লাথির আঘাতে শ্বশুর নিহত, অভিযুক্ত রাসেল পুলিশ হেফাজতে।

মানিকগঞ্জে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ল জামাই, ধস্তাধস্তি ও লাথিতে শ্বশুরের মৃত্যু

Update Time : ০৯:৫১:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নিজের শ্বশুরের অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন মেয়ের জামাই। এ সময় চুরির ঘটনা নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জামাইয়ের সজোরে মারা লাথির আঘাতে শ্বশুর সিদ্দিক আলী (৪৮) নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের সাকরাইল গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। নিহত সিদ্দিক আলী ওই এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। অভিযুক্ত জামাইয়ের নাম রাসেল (২৭)।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মধ্যরাতে সিদ্দিক আলীর বসতঘরের পাশে রাখা অটোরিকশা (হ্যালো বাইক) থেকে ব্যাটারি ও চার্জার খোলার চেষ্টা করছিল এক চোর। এ সময় অটোরিকশার কাছ থেকে অস্বাভাবিক শব্দ পেয়ে সিদ্দিক আলীর ছেলে পরিবারের সবাইকে সজাগ করেন। সিদ্দিক আলী ও তার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে অন্ধকারের মধ্যে চোর সন্দেহে ওই ব্যক্তিকে জাপটে ধরেন। পরে আলো এনে ভালো করে দেখার পর তারা স্তব্ধ হয়ে যান—কারণ চোরটি অন্য কেউ নয়, স্বয়ং সিদ্দিক আলীর নিজের মেয়ের জামাই রাসেল।

চুরির বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ার পর জামাই রাসেলের সঙ্গে শ্বশুর সিদ্দিক আলী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের তীব্র কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে রাসেল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার শ্বশুর সিদ্দিক আলীকে লক্ষ্য করে সজোরে লাথি মারেন। রাসেলের লাথি সরাসরি সিদ্দিক আলীর অণ্ডকোষে গিয়ে লাগে। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তাৎক্ষণিক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা এবং প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী রুনা বেগম জানান, তার ছেলে প্রথমে হ্যালো বাইকের কাছে শব্দ পেয়ে চোর বলে চিৎকার দেয়। পরে তারা চোরকে ধরে দেখেন সে তাদের মেয়ের জামাই রাসেল। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে রাসেল তার স্বামীকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। রাসেলের সঙ্গে শাওন নামে আরও একজন জড়িত ছিল উল্লেখ করে তিনি এই অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে সিদ্দিক আলীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত জামাই রাসেলকে ঘটনাস্থলেই আটকে রেখে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত সাকরাইল গ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাসেলকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। স্থানীয়দের মারধরে আহত হওয়ায় রাসেলকে পুলিশের নজরদারিতে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনা নিয়ে ধস্তাধস্তির সময় লাথির আঘাতে সিদ্দিক আলী নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন এবং অভিযুক্ত রাসেল নিহতের মেয়ের জামাই। ঘটনার বিস্তারিত ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করেছে এবং এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।