মানিকগঞ্জে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা—ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ছেলের মৃত্যুর মাত্র পাঁচ মিনিট পরই মায়েরও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের সাহেবপাড়া গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আনছার আলীর ছোট ছেলে আব্দুল আওয়াল (৪১) কয়েকদিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানী সংলগ্ন সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
রোববার সকালে তাঁর মরদেহ যখন গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়, তখন বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয় ছেলের নিথর দেহটি দেখে মা রেহেলা আক্তার (৬৯) আর স্থির থাকতে পারেননি। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি মাটিতে বসে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন। একপর্যায়ে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে সব শেষ—হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে চিরবিদায় নেন তিনি।
এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আওয়ালের বড় ভাই ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান।
তিনি বলেন,“ছোট ভাইয়ের মৃত্যু আমাদের পরিবারের জন্য গভীর শোকের ছিল। কিন্তু মা যেভাবে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে নিজেও চলে গেলেন—তা কোনোভাবেই ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
স্থানীয়রা জানান, আব্দুল আওয়াল ছিলেন ভদ্র, নম্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। স্থানীয় বাজারে ওষুধের দোকান চালাতেন তিনি। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
গ্রামের মানুষ বলছে, একসঙ্গে মা-ছেলের এমন বিদায় তাদের চোখে অশ্রু এনে দিয়েছে। পুরো সাহেবপাড়া গ্রাম এখন শোকে স্তব্ধ—আওয়ালের মরদেহের পাশে মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকা দৃশ্য যেন এক অকল্পনীয় বেদনার চিত্র।
নিজস্ব প্রতিবেদক, আপেল মাহমুদ চৌধুরী : 















