ঢাকার ধামরাই উপজেলার হাটিপাড়া এলাকায় পরিবেশ ও নিরাপত্তা আইন অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে ‘মেসার্স ফোর স্টার ব্রিকস’ ইটভাটা। কোনো পরিবেশ ছাড়পত্র নেই, নেই ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স—সরকারি নীতিমালা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অবৈধভাবে ইট উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে ভাটাটি।
আরও চাঞ্চল্যের বিষয়—
অবৈধ এই ইটভাটার মালিক ধামরাইয়ের ভারারা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউর রহমান!
যিনি জনগণের প্রতিনিধি হয়ে আইন প্রয়োগ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে রয়েছেন—সেই তিনিই আইন অমান্যের সরাসরি অভিযুক্ত।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চেয়ারম্যান নিজে মালিক হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
তাদের ভাষায়—
“পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে—সব জেনেও চেয়ারম্যান অবৈধভাবে ইট বানাচ্ছেন। কেউ কিছু বললে ভয়-ভীতি দেখানো হয়।”
ইটভাটাটির বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে—পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই
ফায়ার সার্ভিসের নিরাপত্তা লাইসেন্স নেই
শ্রমিকদের নিরাপত্তা মানা হয় না
কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ঝুঁকিতে
নিয়ন্ত্রণহীন ধোঁয়া ও বায়ুদূষণে শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট
।
অভিযোগ রয়েছে, ভাটার কালো ধোঁয়া ও অতিরিক্ত তাপের কারণে আশপাশের ফসল নষ্ট হচ্ছে। এমনকি ঘরবাড়িতে ফাটল ধরার ঘটনাও জানিয়েছে স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট—অবিলম্বে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করতে হবে
, নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে
।
আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে
।
জনপ্রতিনিধি হয়েও আইন ভাঙার জন্য চেয়ারম্যানের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে
।
জাতীয় স্বার্থে পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টি এখনই গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা না নিলে ধামরাইবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
আইন অনুযায়ী পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ইটভাটা পরিচালনা করলে বড় অঙ্কের জরিমানা, সিলগালা এবং কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু চেয়ারম্যান নিজেই মালিক হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।
নিজস্ব প্রতিবেদক : 














