১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মানিকগঞ্জের দায়িত্বরত আনসারের নিকট ধর্ষণের শিকার নারী 

স্টাফ রিপোর্টার :

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে হাসপাতালে আশ্রয় নিতে আসা এক ১৬ বছর বয়সী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর সরাসরি শনাক্তকরণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে নারায়ণগঞ্জ থেকে মানিকগঞ্জের বেতিলা এলাকায় নানাবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে রাত আনুমানিক দুইটার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানটির ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। গভীর রাতে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে তারা মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে যান।

এ সময় হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্য আবু সাঈদ ও শাহাদাৎ হোসেন দম্পতিকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে এক আনসার সদস্য ভুক্তভোগীর স্বামীকে বাইরে নিয়ে যান। অন্য আনসার সদস্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে দুই আনসার সদস্য পালাক্রমে আবারও তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে গেলে ভুক্তভোগী তার স্বামীকে বিষয়টি জানান। পরে টহল পুলিশের সহায়তায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ করা হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

পরে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা সব আনসার সদস্যকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হলে ভুক্তভোগী আবু সাঈদ ও শাহাদাৎ হোসেনকে অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর পুলিশ তাদের আটক করে।

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত সহকারী প্লাটুন কমান্ডার সাহেব আলী বলেন, “রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন আবু সাঈদ ও শাহাদাৎ হোসেন। ভোরের দিকে পুলিশ এসে সবাইকে দাঁড় করালে ভুক্তভোগী তাদের শনাক্ত করেন।”

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, “জেলা আনসার কমান্ড্যান্টের মাধ্যমে এখানে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভুক্তভোগীর চিকিৎসা চলছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।”

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ডিউটি রোস্টার যাচাই করে দেখা গেছে, আটক দুই আনসার সদস্য ঘটনার সময় দায়িত্বে ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।”

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাটুরিয়ায় এতিম শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক এক

মানিকগঞ্জের দায়িত্বরত আনসারের নিকট ধর্ষণের শিকার নারী 

Update Time : ০৩:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার :

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে হাসপাতালে আশ্রয় নিতে আসা এক ১৬ বছর বয়সী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর সরাসরি শনাক্তকরণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে নারায়ণগঞ্জ থেকে মানিকগঞ্জের বেতিলা এলাকায় নানাবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে রাত আনুমানিক দুইটার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানটির ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। গভীর রাতে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে তারা মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে যান।

এ সময় হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্য আবু সাঈদ ও শাহাদাৎ হোসেন দম্পতিকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে এক আনসার সদস্য ভুক্তভোগীর স্বামীকে বাইরে নিয়ে যান। অন্য আনসার সদস্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে দুই আনসার সদস্য পালাক্রমে আবারও তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে গেলে ভুক্তভোগী তার স্বামীকে বিষয়টি জানান। পরে টহল পুলিশের সহায়তায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ করা হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

পরে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা সব আনসার সদস্যকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হলে ভুক্তভোগী আবু সাঈদ ও শাহাদাৎ হোসেনকে অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর পুলিশ তাদের আটক করে।

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত সহকারী প্লাটুন কমান্ডার সাহেব আলী বলেন, “রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন আবু সাঈদ ও শাহাদাৎ হোসেন। ভোরের দিকে পুলিশ এসে সবাইকে দাঁড় করালে ভুক্তভোগী তাদের শনাক্ত করেন।”

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, “জেলা আনসার কমান্ড্যান্টের মাধ্যমে এখানে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভুক্তভোগীর চিকিৎসা চলছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।”

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ডিউটি রোস্টার যাচাই করে দেখা গেছে, আটক দুই আনসার সদস্য ঘটনার সময় দায়িত্বে ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।”

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।