১০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

মানিকগঞ্জে কিশোরদের গাছের সাথে বেঁধে মারধরের অভিযোগ

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বান্দুটিয়া এলাকায় কয়েকজন কিশোরকে গাছের সাথে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বান্দুটিয়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ ওয়াজেদ আলী (৪৩) অভিযোগ করেন যে, তার প্রতিবেশী বদিউজ্জামান চুন্নু (৬০) পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার ছেলে ও এলাকার আরও কয়েকজন শিশুকে ধরে নিয়ে মারধর করেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ঘটনার দিন সাদিক শুভ্র (১৪) সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার শেষে বাসায় গিয়ে খাবার খেয়ে ইশার আজানের পর তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে যায়। নামাজের কয়েক রাকাত পড়ার পর সে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসে। এ সময় তার সঙ্গে ছিল প্রতিবেশী মোঃ মামুনের ছেলে মাহিদ (১২), আওয়ালের ছেলে আপন (১৩) এবং মুরাদের ছেলে মুন্না (১৩)।

অভিযোগে বলা হয়, মসজিদ থেকে বের হয়ে আসা দেখে বদিউজ্জামান চুন্নু তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন। পরে তিনি জোরপূর্বক চারজন কিশোরকে ধরে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান এবং সেখানে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করতে থাকেন।

এ সময় কিশোরদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ওয়াজেদ আলী ও প্রতিবেশী মামুনের পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে বদিউজ্জামান চুন্নু ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়াজেদ আলী অভিযোগে আরও বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই তার ছেলে এবং অন্য শিশুদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত বদিউজ্জামান চুন্নুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বদিউজ্জামান চুন্নুর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামাল হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাটুরিয়ায় এতিম শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক এক

মানিকগঞ্জে কিশোরদের গাছের সাথে বেঁধে মারধরের অভিযোগ

Update Time : ০৬:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বান্দুটিয়া এলাকায় কয়েকজন কিশোরকে গাছের সাথে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বান্দুটিয়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ ওয়াজেদ আলী (৪৩) অভিযোগ করেন যে, তার প্রতিবেশী বদিউজ্জামান চুন্নু (৬০) পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার ছেলে ও এলাকার আরও কয়েকজন শিশুকে ধরে নিয়ে মারধর করেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ঘটনার দিন সাদিক শুভ্র (১৪) সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার শেষে বাসায় গিয়ে খাবার খেয়ে ইশার আজানের পর তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে যায়। নামাজের কয়েক রাকাত পড়ার পর সে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসে। এ সময় তার সঙ্গে ছিল প্রতিবেশী মোঃ মামুনের ছেলে মাহিদ (১২), আওয়ালের ছেলে আপন (১৩) এবং মুরাদের ছেলে মুন্না (১৩)।

অভিযোগে বলা হয়, মসজিদ থেকে বের হয়ে আসা দেখে বদিউজ্জামান চুন্নু তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন। পরে তিনি জোরপূর্বক চারজন কিশোরকে ধরে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান এবং সেখানে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করতে থাকেন।

এ সময় কিশোরদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ওয়াজেদ আলী ও প্রতিবেশী মামুনের পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে বদিউজ্জামান চুন্নু ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়াজেদ আলী অভিযোগে আরও বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই তার ছেলে এবং অন্য শিশুদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত বদিউজ্জামান চুন্নুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বদিউজ্জামান চুন্নুর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামাল হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।