মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ যদি চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের কোনো নেতাকর্মীর আচরণে জনগণ কষ্ট পেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
শনিবার রাতে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি এলাকায় জনসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আফরোজা খানম রিতা বলেন,
“আমার দলের নেতাকর্মীদের কারণে যদি মানুষ কষ্ট পায়, যদি কারও বিরুদ্ধে জায়গা দখল বা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে—তাহলে প্রশ্ন আসে, আমরা কি এই জন্য রাজনীতি করছি? ১৭ বছর ধরে আমরা কি এই জন্য কষ্ট করেছি? কেন আমাদের দলের লোকজনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠবে?”
তিনি আরও বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হলে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবার প্রতিনিধি হয়ে কাজ করবেন এবং কোনো ধরনের অন্যায় সহ্য করবেন না। চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের দলীয় পদসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাতিল করা হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিতা বলেন,
“কেউ যদি মনে করে আমি কিছু জানি না—তা ভুল। আমার কাছে সব খবর আছে। সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি। সময় হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ যেন কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন। তিনি জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে বলেন, দুর্নীতি ও মাদকের সঙ্গে জড়িতদের দল ও সমাজ থেকে দূরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই উপদেষ্টা বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব যেন ভোটের মাঠে প্রভাব না ফেলে। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
নেতাকর্মীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে রিতা আরও বলেন,
“নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতায় আমরা কর্মী হারিয়ে ফেলছি। আগে ভালো কর্মী হতে হবে, মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে—তারপর নেতৃত্ব আসবে।”
এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্রিজ-কালভার্টসহ নানা সমস্যা সমাধানে জনগণের ভোটই সবচেয়ে বড় শক্তি। সঠিক সিদ্ধান্তই মানিকগঞ্জকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেবে বলেও মন্তব্য করেন আফরোজা খানম রিতা।
নিজস্ব প্রতিবেদক : 















