০৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

পুলিশের ছদ্মবেশে রাস্তায় দাপট

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১০:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৫৬ Time View

নবীনগর বাইপাস এলাকায় পুলিশের পোশাক ও কমিউনিটি পুলিশের আইডি কার্ড ব্যবহার করে সাধারণ যানবাহন আটকানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রেকার ড্রাইভার রতিস ও স্বজলের হেলপার বাবুর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবু কোনো পুলিশ সদস্য নন। অথচ পুলিশের পরিচয় দিয়ে তিনি যানবাহন থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অযথা হয়রানি করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী একাধিক চালক জানান, পুলিশের জ্যাকেট ও আইডি কার্ড দেখে তারা ভয়ে গাড়ি থামাতে বাধ্য হন। পরে বিষয়টি ভুয়া বলে বুঝতে পারলেও ততক্ষণে মানসিক আতঙ্ক ও অপমানের শিকার হন তারা। চালকদের ভাষ্য, পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে এভাবে রাস্তায় কর্তৃত্ব দেখানো নিঃসন্দেহে গুরুতর অপরাধ।

স্থানীয়রা জানান, বাবু দীর্ঘদিন ধরে রেকার ড্রাইভার রতিস ও স্বজলের অধীনে হেলপার হিসেবে কাজ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রেকার ব্যবহার করেই পুলিশের পোশাক পরিধান করে রাস্তায় এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন। ফলে রতিস ও স্বজল বিষয়টি জানতেন না—এমন দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, যেহেতু বাবু রতিস ও স্বজলের তত্ত্বাবধানে কাজ করছিলেন, তাই বিষয়টি তাদের অজ্ঞাতসারে ঘটেছে কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা জরুরি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশের পোশাক ও পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা শুধু প্রতারণাই নয়, এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত পুলিশ সদস্যদের প্রতিও মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবুর কর্মকাণ্ড সরাসরি ফৌজদারি অপরাধের আওতাভুক্ত। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী—

ধারা ১৭০: সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করা অপরাধ।

ধারা ১৭১ ও ১৭১(খ): সরকারি কর্মচারীর পরিচয় বা বেশ ধারণ করে ক্ষমতা প্রদর্শন করা দণ্ডনীয়।

ধারা ৪১৯: প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষতি সাধন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

পাশাপাশি তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে রতিস ও স্বজল এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিলেন বা সহযোগিতা করেছেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে ধারা ১০৭ (অপরাধে সহায়তা বা Abetment) অনুযায়ী মামলার সুযোগ রয়েছে।

আইন অনুযায়ী এসব অপরাধের শাস্তি হিসেবে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত বাবুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে রেকার ড্রাইভার রতিস ও স্বজলের ভূমিকা কী ছিল, তা স্পষ্টভাবে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। ভবিষ্যতে যেন রেকার সার্ভিসের আড়ালে কেউ পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

নবীনগর বাইপাস এলাকায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পুলিশ প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মানিকগঞ্জে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সমাবেশ অনুষ্ঠিত ।

পুলিশের ছদ্মবেশে রাস্তায় দাপট

Update Time : ০৯:১০:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

নবীনগর বাইপাস এলাকায় পুলিশের পোশাক ও কমিউনিটি পুলিশের আইডি কার্ড ব্যবহার করে সাধারণ যানবাহন আটকানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রেকার ড্রাইভার রতিস ও স্বজলের হেলপার বাবুর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবু কোনো পুলিশ সদস্য নন। অথচ পুলিশের পরিচয় দিয়ে তিনি যানবাহন থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অযথা হয়রানি করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী একাধিক চালক জানান, পুলিশের জ্যাকেট ও আইডি কার্ড দেখে তারা ভয়ে গাড়ি থামাতে বাধ্য হন। পরে বিষয়টি ভুয়া বলে বুঝতে পারলেও ততক্ষণে মানসিক আতঙ্ক ও অপমানের শিকার হন তারা। চালকদের ভাষ্য, পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে এভাবে রাস্তায় কর্তৃত্ব দেখানো নিঃসন্দেহে গুরুতর অপরাধ।

স্থানীয়রা জানান, বাবু দীর্ঘদিন ধরে রেকার ড্রাইভার রতিস ও স্বজলের অধীনে হেলপার হিসেবে কাজ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রেকার ব্যবহার করেই পুলিশের পোশাক পরিধান করে রাস্তায় এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন। ফলে রতিস ও স্বজল বিষয়টি জানতেন না—এমন দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, যেহেতু বাবু রতিস ও স্বজলের তত্ত্বাবধানে কাজ করছিলেন, তাই বিষয়টি তাদের অজ্ঞাতসারে ঘটেছে কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা জরুরি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশের পোশাক ও পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা শুধু প্রতারণাই নয়, এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত পুলিশ সদস্যদের প্রতিও মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবুর কর্মকাণ্ড সরাসরি ফৌজদারি অপরাধের আওতাভুক্ত। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী—

ধারা ১৭০: সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করা অপরাধ।

ধারা ১৭১ ও ১৭১(খ): সরকারি কর্মচারীর পরিচয় বা বেশ ধারণ করে ক্ষমতা প্রদর্শন করা দণ্ডনীয়।

ধারা ৪১৯: প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষতি সাধন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

পাশাপাশি তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে রতিস ও স্বজল এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিলেন বা সহযোগিতা করেছেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে ধারা ১০৭ (অপরাধে সহায়তা বা Abetment) অনুযায়ী মামলার সুযোগ রয়েছে।

আইন অনুযায়ী এসব অপরাধের শাস্তি হিসেবে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত বাবুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে রেকার ড্রাইভার রতিস ও স্বজলের ভূমিকা কী ছিল, তা স্পষ্টভাবে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। ভবিষ্যতে যেন রেকার সার্ভিসের আড়ালে কেউ পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

নবীনগর বাইপাস এলাকায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পুলিশ প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা