০৬:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

সাটুরিয়ায় শিলাবৃষ্টির আঘাতে ছিদ্র চালের নিচে মানবেতর কাটছে সোনালীর দিন

আকাশে মেঘ জমলেই আতঙ্ক বেড়ে যায় মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের সাভার গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে সোনালী হোসেনের (৪৮)। তিনি পেশায় একজন তাঁত শ্রমিক ও বাড়ির পাশেই মসজিদের ইমাম। গত কয়েকদিন আগে শিলাবৃষ্টিতে তার মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই মরিচা ধরা সোনালী রঙের টিনের চালাটি ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই চালের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে ভিজে যায় বিছানাসহ পুরো ঘর। ঘরে প্রতিবন্ধী সন্তানসহ তিন ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে পলিথিন টাঙিয়ে কোনোমতে রাত পার করছেন এই অসহায় পরিবার।

সোনালী পেশায় একজন সাধারণ তাঁত শ্রমিক হওয়ায় সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়ে কোনোমতে পাঁচ সদস্যের পরিবারের দুবেলা আহার জোটে। তার দুই ছেলে স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। নিজের নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে ঘর মেরামতের জন্য টাকা জোগাড় করা তার কাছে এখন বিলাসিতা মাত্র।

সোনালীর স্ত্রীও তাকে সহযোগীতার করার জন্য বাড়িতেই সেলাই মেশিনের কাজ করেন। কিন্তু আগের মত কাজ না হওয়ায় সেটি থেকে আয় হচ্ছে না তার। ফলে নিজেরা সংসারের চাকা ঘুরানোর চেষ্টা করলেও ভাগ্য যেন তাদের সাড়া দিচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরের টিনের চালার অধিকাংশ স্থানে শিলাবৃষ্টির আঘাতে ছোট বড় অসংখ্য ছিদ্র হয়েছে। বৃষ্টির পানি থেকে বাঁচতে ঘরের ভেতর আসবাবপত্র ও বিছানার ওপর পুরনো পলিথিন বিছিয়ে রাখা হয়েছে। ঘরের মেঝে ও ডোয়া কাঁচা মাটির। ঘরের দরজা ও জানালা ভাঙা, জানালায় লোহার রড ও কপাট নেই, কাঠের বাটামগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরটি জরাজীর্ণ ও প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সোনালী মিয়া জানান, নিজে না খেয়ে থাকলেও সন্তানদের কষ্ট সহ্য হয় না। বৃষ্টি নামলে প্রতিবন্ধী ছেলেটাকে নিয়ে ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ঘর ঠিক করার মতো সামর্থ্য আল্লাহ এখনো আমাকে দেয় নাই।

সোনালী হোসেনের নিজস্ব আয়ের কোন উৎস না থাকায় এবং আর্থিক অবস্থার চরম দুরাবস্থা বিবেচনা করে স্থানীয় বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী মোহাম্মদ আব্দুল হাই তাকে ‘হতদরিদ্র’ হিসেবে চিহ্নিত করে একটি সনদপত্র দিয়েছেন। কিন্তু কেবল সরকারি কাগজ হাতে থাকলেও ঘর মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা বা টিন এখনো জোটেনি তার কপালে।

প্রতিবেশী মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, সোনালী হোসেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সহজ-সরল ধার্মিক মানুষ। অভাবের সংসারে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ তাকে অসহনীয় করে তোলেছে। সরকারি সহায়তা বা সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে না এলে এই সোনালীর পরিবারকে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে হয়তো আতঙ্ক মাথায় নিয়ে এভাবেই দিন কাটাতে হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ দেলোয়ার হোসাইন জানান, সোনালীর আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ ঘর মেরামতের বিষয়ে আর্থিক সাহায্যের জন্য তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে শুক্রবার বিকালে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বেসরকারী বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা মহোদয়ের দপ্তর থেকে এ বিষয়ে আমার মাধ্যমে খোজ খবর নিতে বলছেন। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। সত্যতা পেলে মন্ত্রী মহোদয়ের পক্ষ থেকে এবং বিধি মোতাবেক সরকারীভাবে দ্রুত আর্থিক সহযেগীতা করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মানিকগঞ্জে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সমাবেশ অনুষ্ঠিত ।

সাটুরিয়ায় শিলাবৃষ্টির আঘাতে ছিদ্র চালের নিচে মানবেতর কাটছে সোনালীর দিন

Update Time : ০৪:৫১:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

আকাশে মেঘ জমলেই আতঙ্ক বেড়ে যায় মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের সাভার গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে সোনালী হোসেনের (৪৮)। তিনি পেশায় একজন তাঁত শ্রমিক ও বাড়ির পাশেই মসজিদের ইমাম। গত কয়েকদিন আগে শিলাবৃষ্টিতে তার মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই মরিচা ধরা সোনালী রঙের টিনের চালাটি ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই চালের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে ভিজে যায় বিছানাসহ পুরো ঘর। ঘরে প্রতিবন্ধী সন্তানসহ তিন ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে পলিথিন টাঙিয়ে কোনোমতে রাত পার করছেন এই অসহায় পরিবার।

সোনালী পেশায় একজন সাধারণ তাঁত শ্রমিক হওয়ায় সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়ে কোনোমতে পাঁচ সদস্যের পরিবারের দুবেলা আহার জোটে। তার দুই ছেলে স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। নিজের নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে ঘর মেরামতের জন্য টাকা জোগাড় করা তার কাছে এখন বিলাসিতা মাত্র।

সোনালীর স্ত্রীও তাকে সহযোগীতার করার জন্য বাড়িতেই সেলাই মেশিনের কাজ করেন। কিন্তু আগের মত কাজ না হওয়ায় সেটি থেকে আয় হচ্ছে না তার। ফলে নিজেরা সংসারের চাকা ঘুরানোর চেষ্টা করলেও ভাগ্য যেন তাদের সাড়া দিচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরের টিনের চালার অধিকাংশ স্থানে শিলাবৃষ্টির আঘাতে ছোট বড় অসংখ্য ছিদ্র হয়েছে। বৃষ্টির পানি থেকে বাঁচতে ঘরের ভেতর আসবাবপত্র ও বিছানার ওপর পুরনো পলিথিন বিছিয়ে রাখা হয়েছে। ঘরের মেঝে ও ডোয়া কাঁচা মাটির। ঘরের দরজা ও জানালা ভাঙা, জানালায় লোহার রড ও কপাট নেই, কাঠের বাটামগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরটি জরাজীর্ণ ও প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সোনালী মিয়া জানান, নিজে না খেয়ে থাকলেও সন্তানদের কষ্ট সহ্য হয় না। বৃষ্টি নামলে প্রতিবন্ধী ছেলেটাকে নিয়ে ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ঘর ঠিক করার মতো সামর্থ্য আল্লাহ এখনো আমাকে দেয় নাই।

সোনালী হোসেনের নিজস্ব আয়ের কোন উৎস না থাকায় এবং আর্থিক অবস্থার চরম দুরাবস্থা বিবেচনা করে স্থানীয় বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী মোহাম্মদ আব্দুল হাই তাকে ‘হতদরিদ্র’ হিসেবে চিহ্নিত করে একটি সনদপত্র দিয়েছেন। কিন্তু কেবল সরকারি কাগজ হাতে থাকলেও ঘর মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা বা টিন এখনো জোটেনি তার কপালে।

প্রতিবেশী মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, সোনালী হোসেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সহজ-সরল ধার্মিক মানুষ। অভাবের সংসারে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ তাকে অসহনীয় করে তোলেছে। সরকারি সহায়তা বা সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে না এলে এই সোনালীর পরিবারকে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে হয়তো আতঙ্ক মাথায় নিয়ে এভাবেই দিন কাটাতে হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ দেলোয়ার হোসাইন জানান, সোনালীর আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ ঘর মেরামতের বিষয়ে আর্থিক সাহায্যের জন্য তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে শুক্রবার বিকালে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বেসরকারী বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা মহোদয়ের দপ্তর থেকে এ বিষয়ে আমার মাধ্যমে খোজ খবর নিতে বলছেন। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। সত্যতা পেলে মন্ত্রী মহোদয়ের পক্ষ থেকে এবং বিধি মোতাবেক সরকারীভাবে দ্রুত আর্থিক সহযেগীতা করা হবে।