১০:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মানিকগঞ্জের ঘিওরে খাবারের সাথে বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে শিক্ষক পরিবারের ৬ সদস্যকে অচেতন করে হাসপাতালে পাঠালো দুর্বৃত্তরা, ফাঁকা বাড়িতে তালা ভেঙে ৯ ভরি স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট।

ঘিওরে খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে শিক্ষক পরিবারের সবাইকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দুর্ধর্ষ চুরি

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের বাইলজুরী গ্রামে এক শিক্ষকের পরিবারের খাবারে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন করে ঘরে থাকা নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের ছয় সদস্যকে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাইলজুরী গ্রামের স্থানীয় এক শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরা গতকাল শুক্রবার দুপুরের খাবার খাওয়ার পর থেকেই একে একে অসুস্থ ও অচেতন হতে শুরু করেন। সন্ধ্যার দিকে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রতিবেশীরা টের পেয়ে পরিবারের ছয় সদস্যকেই দ্রুত উদ্ধার করে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

পরিবারের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় রাতে পুরো বাড়িটি সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে যায়। এই সুযোগে গভীর রাতে একদল চোর ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। দুর্বৃত্তরা আলমারি ও ড্রয়ার তছনছ করে ঘরের ভেতরে থাকা প্রায় ৯ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার এবং সঞ্চিত নগদ মোটা অঙ্কের টাকা লুটে নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।

আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রতিবেশীরা ঘরের তালা ভাঙা ও আসবাবপত্র এলোমেলো দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘিওর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন ছয়জনের শরীর থেকেই চেতনানাশকের প্রভাব কাটানোর চেষ্টা চলছে এবং বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “খাবারের সাথে চেতনানাশক বা বিষাক্ত কিছু মেশানোর কারণে পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে এই চুরিটি করা হয়েছে। খাবারে বিষাক্ত দ্রব্য মেশানোর সাথে বাইরের কেউ নাকি পরিচিত কোনো চক্র জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও লুটের মালামাল উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে।”

এই ঘটনায় ঘিওর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা: মানিকগঞ্জে টয়লেটে মাংস ধোয়ার অপরাধে ৩ বিরিয়ানি হাউজ সিলগালা ও জরিমানা

মানিকগঞ্জের ঘিওরে খাবারের সাথে বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে শিক্ষক পরিবারের ৬ সদস্যকে অচেতন করে হাসপাতালে পাঠালো দুর্বৃত্তরা, ফাঁকা বাড়িতে তালা ভেঙে ৯ ভরি স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট।

ঘিওরে খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে শিক্ষক পরিবারের সবাইকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দুর্ধর্ষ চুরি

Update Time : ১১:৩৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের বাইলজুরী গ্রামে এক শিক্ষকের পরিবারের খাবারে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন করে ঘরে থাকা নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের ছয় সদস্যকে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাইলজুরী গ্রামের স্থানীয় এক শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরা গতকাল শুক্রবার দুপুরের খাবার খাওয়ার পর থেকেই একে একে অসুস্থ ও অচেতন হতে শুরু করেন। সন্ধ্যার দিকে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রতিবেশীরা টের পেয়ে পরিবারের ছয় সদস্যকেই দ্রুত উদ্ধার করে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

পরিবারের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় রাতে পুরো বাড়িটি সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে যায়। এই সুযোগে গভীর রাতে একদল চোর ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। দুর্বৃত্তরা আলমারি ও ড্রয়ার তছনছ করে ঘরের ভেতরে থাকা প্রায় ৯ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার এবং সঞ্চিত নগদ মোটা অঙ্কের টাকা লুটে নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।

আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রতিবেশীরা ঘরের তালা ভাঙা ও আসবাবপত্র এলোমেলো দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘিওর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন ছয়জনের শরীর থেকেই চেতনানাশকের প্রভাব কাটানোর চেষ্টা চলছে এবং বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “খাবারের সাথে চেতনানাশক বা বিষাক্ত কিছু মেশানোর কারণে পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে এই চুরিটি করা হয়েছে। খাবারে বিষাক্ত দ্রব্য মেশানোর সাথে বাইরের কেউ নাকি পরিচিত কোনো চক্র জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও লুটের মালামাল উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে।”

এই ঘটনায় ঘিওর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।