১০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাসস্ট্যান্ডের ফলপট্টি এলাকায় শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্কে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে গভীর রাতে ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক

মানিকগঞ্জ শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা বাসস্ট্যান্ডের ফলপট্টি সংলগ্ন ওভারব্রিজের নিচে একটি শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বিকট শব্দের এই বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ব্যস্ত সময়ে এমন আকস্মিক ঘটনায় সাধারণ পথচারী, দূরপাল্লার যাত্রী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, শনিবার রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্বাভাবিক নিয়মেই মানুষের ভিড় ও ব্যস্ততা ছিল। রাত সোয়া ৯টার দিকে ওভারব্রিজের নিচে হঠাৎ বিকট একটি শব্দ হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী মো. হাবিব বলেন, আমরা কয়েকজন দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম, হঠাৎ এত বিকট শব্দ হলো যে প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো গাড়ির চাকা ফেটে গেছে। কিন্তু একটু পরেই পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ভরে যায় এবং বারুদের গন্ধ ছড়াতে থাকে। তখন বুঝতে পারি এটি ককটেল বিস্ফোরণ। আতঙ্কিত মানুষ যে যার মতো দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে ঘটনার সময় অত্যন্ত দ্রুত হওয়ায় কে বা কারা এটি নিক্ষেপ করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে কেউ দেখতে পাননি।

এদিকে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরপরই মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত সংগ্রহ করেছে। মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মাসুম সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে, মোটরসাইকেলে করে এসে কোনো দুর্বৃত্ত দল চলন্ত অবস্থা থেকে ওভারব্রিজের নিচে ককটেলটি ছুড়ে মেরে দ্রুত পালিয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য বাসস্ট্যান্ড এবং আশেপাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম এই পয়েন্টে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসেও মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা এবং শহরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকের বাসভবনের প্রধান ফটকের সামনে একাধিকবার অনুরূপ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। নতুন করে আবারও এই ব্যস্ততম জনবহুল এলাকায় হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা অবিলম্বে এই চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।


Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা: মানিকগঞ্জে টয়লেটে মাংস ধোয়ার অপরাধে ৩ বিরিয়ানি হাউজ সিলগালা ও জরিমানা

বাসস্ট্যান্ডের ফলপট্টি এলাকায় শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্কে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে গভীর রাতে ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক

Update Time : ০৪:৪৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানিকগঞ্জ শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা বাসস্ট্যান্ডের ফলপট্টি সংলগ্ন ওভারব্রিজের নিচে একটি শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বিকট শব্দের এই বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ব্যস্ত সময়ে এমন আকস্মিক ঘটনায় সাধারণ পথচারী, দূরপাল্লার যাত্রী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, শনিবার রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্বাভাবিক নিয়মেই মানুষের ভিড় ও ব্যস্ততা ছিল। রাত সোয়া ৯টার দিকে ওভারব্রিজের নিচে হঠাৎ বিকট একটি শব্দ হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী মো. হাবিব বলেন, আমরা কয়েকজন দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম, হঠাৎ এত বিকট শব্দ হলো যে প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো গাড়ির চাকা ফেটে গেছে। কিন্তু একটু পরেই পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ভরে যায় এবং বারুদের গন্ধ ছড়াতে থাকে। তখন বুঝতে পারি এটি ককটেল বিস্ফোরণ। আতঙ্কিত মানুষ যে যার মতো দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে ঘটনার সময় অত্যন্ত দ্রুত হওয়ায় কে বা কারা এটি নিক্ষেপ করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে কেউ দেখতে পাননি।

এদিকে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরপরই মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত সংগ্রহ করেছে। মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মাসুম সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে, মোটরসাইকেলে করে এসে কোনো দুর্বৃত্ত দল চলন্ত অবস্থা থেকে ওভারব্রিজের নিচে ককটেলটি ছুড়ে মেরে দ্রুত পালিয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য বাসস্ট্যান্ড এবং আশেপাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম এই পয়েন্টে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসেও মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা এবং শহরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকের বাসভবনের প্রধান ফটকের সামনে একাধিকবার অনুরূপ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। নতুন করে আবারও এই ব্যস্ততম জনবহুল এলাকায় হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা অবিলম্বে এই চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।