মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি (বারাহীচর) গ্রামে আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে একটি ঘরের দরজা ভেঙে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন— তিন মাস আগে সৌদি আরব থেকে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরা প্রবাসী আকরাম হোসেন ওরফে একরাম মোল্লা (৪০), তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৪) এবং তাঁদের দেড় বছর বয়সী কন্যাসন্তান আলিজা আক্তার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে সর্বশেষ জানা গেছে, আকরাম হোসেন তাঁর মা, ভাই ও ভাবির সাথে যৌথ পরিবারে একই বাড়িতে বসবাস করতেন। গতকাল শুক্রবার রাতে তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। আজ শনিবার বেলা গড়িয়ে গেলেও ঘর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পাওয়ায় এবং দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে আকরামের মা জানালার ফাঁক দিয়ে তাঁর ছেলেকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন। পরে প্রতিবেশীরা এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে তিনটি মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘরের ভেতর ফ্যানের সাথে আকরামের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ঘরের মেঝেতে তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার রক্তাক্ত এবং শিশুসন্তান আলিজার মরদেহ পড়ে ছিল। প্রিয়াঙ্কার মুখে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং শিশু আলিজার শরীরে দৃশ্যমান কোনো ক্ষত না থাকলেও তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী জানান, পারিপার্শ্বিক আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি। প্রবাসী আকরাম হোসেন সম্ভবত তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে কী কারণে বা কোনো গভীর পারিবারিক কলহের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহ করছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনির হোসেন জানিয়েছেন, তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 

















