শহিদ আতিয়ার রহমান কেবল একজন শিক্ষক বা অধ্যক্ষ নন; তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাতিঘর, কৃষক আন্দোলনের সংগঠক, ন্যাপের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সারথী। একজন সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান হয়েও মেধার জোরে তিনি হয়ে উঠেছিলেন মানিকগঞ্জের প্রথম ডাবল এম.এ পাস ব্যক্তি। তিনি কেবল বিদ্যা বিতরণ করেননি, বরং আজীবন লড়াই করেছেন সাম্য ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। একজন সাদা মনের মানুষ হিসেবে তিনি তাঁর কর্মদক্ষতা, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাহসী ভূমিকার মাধ্যমে তেরশ্রীর মাটির সাথে মিশে আছেন।
আতিয়ার রহমান ১৯৩৯ সনের ৩০ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলা সদরের কেওয়ারজানি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা শেখ জামাল উদ্দিন এবং মা নছিবন বেগম। বাবা ছিলেন গৃহস্থ আর মা গৃহিণী। তাঁরা ছিলেন দুই ভাই। এরা হলেন শহিদ আতিয়ার রহমান ও শেখ মো. সামুদ্দিন। তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের বড় ছেলে। ছোটবেলা থেকেই তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তাঁর লেখাপড়ার হাতেখড়ি ঘটে নিজ গ্রামে মামা রহমত মাদবরের মাদ্রাসায়। এরপর তিনি বেতিলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরবর্তী সময় তাঁর বাবা যক্ষ্মারোগে মৃত্যুশয্যায় বন্ধু নির্মল মৈত্র (বেতিলার বিখ্যাত দক্ষিণ বাড়ির গোঁসাইদের জামাই বাবু) হাত ধরে দুই ছেলের পড়াশোনার দায়িত্বভার নেওয়ার অনুরোধ করে যান। বন্ধুর আহ্বানে ব্রাহ্মণ নির্মল মৈত্র আন্তরিকভাবে সাড়া দেন। নিজের বাড়িতে (বর্তমান মানিকগঞ্জ শহরের স্বর্ণকারপট্টি সংলগ্ন) তাঁর লেখাপড়াসহ থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা করেন।
এ নির্মল বাবু ছিলেন তৎকালীন মানিকগঞ্জের সুপরিচিত বিদ্যাসাগর লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী। তিনি ছিলেন দৌলতপুরের অধিবাসী। নির্মল বাবুর পরিচালিত এ বিদ্যাসাগর লাইব্রেরি কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছিল না। এটি ছিল ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপসহ মানিকগঞ্জের সকল প্রগতিশীল, বামপন্থী নেতা-কর্মী-বুদ্ধিজীবীদের এক মিলন মেলা। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সৈয়দ আনোয়ার আলী চৌধুরী, ভাষা সৈনিক ওয়ারেশ পাশা, ভাষা সৈনিক আব্দুল হাকিম মাস্টার, ভাষা সৈনিক মিরান মাস্টার, মন্তোষ মাস্টার, আফসার উদ্দিন মাস্টার, ডা. কছিমউদ্দিন, রহমান ঠাকুর ও প্রমথনাথ নন্দীসহ বহু গুণীজন। এরা সকলেই দেশের চলমান রাজনীতির প্রতি-প্রকৃতি নিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করতেন। এমন প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ আতিয়ার রহমানের চিন্তা-চেতনা ও মননে দারুণ প্রভাব ফেলে। কারণ তাঁর মতো আরো অনেকেই এ ব্রাহ্মণ নির্মল বাবুর বাড়িতে লজিং থেকে দীর্ঘদিন পড়াশোনা করেছেন। নির্মল বাবু আতিয়ার রহমানকে নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন এবং সকল প্রয়োজন আন্তরিকভাবে মেটাতেন। ছাত্রদের লজিং খাওয়ানো ছিল তাঁর একরকম নেশা। এ বাড়ির এমন উদার পরিবেশে থেকেই আতিয়ার রহমান মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় (তৎকালীন ভিক্টোরিয়া স্কুল) থেকে ১৯৫৪ সনে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজ থেকে ১৯৫৬ সনে দ্বিতীয় বিভাগে আই.এ পাস করেন। এখান থেকেই ১৯৫৮ সনে দ্বিতীয় বিভাগে বি.এ পাস করেন। পরবর্তীকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও বাংলায় এম.এ পাস করেন। ইংরেজিতে এম.এ করার ইচ্ছা থাকলেও তা সম্পন্ন করতে পারেননি। এসময় তিনিই ছিলেন গোটা কেওয়ারজানি এলাকার প্রথম এম.এ এবং ডাবল এম.এ পাস ব্যক্তি। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন এবং কর্মজীবনে ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি কৃষক আন্দোলন, পাকিস্তানবিরোধী ছয় দফা আন্দোলন, আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্বের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
আতিয়ার রহমান নবাবগঞ্জের গালিমপুর সোনামজরা আলিয়া মাদ্রাসায় প্রথম কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষক হিসেবে এখানে তিনি তিন-চার বছর কর্মরত ছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ও সহকর্মীদের কট্টর-সাম্প্রদায়িক মনোভাব, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় বাড়াবাড়ি ও মতাদর্শে মিল না হওয়ায় তিনি এ চাকরি ছেড়ে দেন। নিজ গ্রামের ভাগ্নে কুতুবুদ্দিনকে নিজ পদে বহাল করে পুনরায় নির্মল বাবুর বাড়িতে এসে ওঠেন। এসময় ১৯৬৭ সনে তেরশ্রী কলেজ (প্রথম বার প্রতিষ্ঠা ১৯৪২ এবং দ্বিতীয় বার প্রতিষ্ঠা ১৯৬৫) অধ্যক্ষ আব্দুল বারি তরফদার ঘিওর থানাবাসীর ইচ্ছায় তেরশ্রী কলেজ ত্যাগ করেন এবং ঘিওর কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি ৬৭ সনের ১লা জুলাই বামপন্থী রাজনৈতিক সৈয়দ আনোয়ার আলী চৌধুরী, আফসার মাস্টার, ওয়াজউদ্দিন মাস্টার, রহমান ঠাকুর ও প্রমথনাথ নন্দীর পরামর্শে তেরশ্রী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। তিনি এসে সহযোগীতা ও নিজের কর্মদক্ষতায় অচিরেই কলেজ প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনে তেরশ্রীবাসীর প্রিয় মানুষে পরিণত হন। তিনি তৎকালীন আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।
প্রগতিশীল তেরশ্রী এলাকা একাত্তর মুক্তিযুদ্ধের ঘাঁটি হিসেবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, দালাল ও রাজাকারদের মনোপীড়ার কারণ হয়ে ওঠে। কারণ আতিয়ার রহমান তাঁর কলেজের যুবক ছাত্রদের মুক্তিযুদ্ধে যোগদানে উৎসাহ দিতেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ভারত যেতে ও ঢাকা পশ্চিম অঞ্চলের ডেপুটি কমান্ডার মানিকগঞ্জের ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরীর দলে রিক্রুট করতে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র দিতেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, আশ্রয় দান ও অস্ত্র-গোলা বারুদ রাখার কারণে তিনি সহজেই স্থানীয় রাজাকার-দালালদের রোষানলে পড়েন। আবার তেরশ্রী কলেজের হাল ধরে তার সুনাম-ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে ঘিওর থানা শহরের কিছু লোকজনদের বিরাগভাজনে পরিণত হন। এজন্য স্থানীয় জমিদার সিদ্ধেশ্বরীপ্রসাদ রায়চৌধুরীর সঙ্গে তাঁকেও হত্যার গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়। তাই ২১ নভেম্বর দিনের বেলা রাজাকার আলবদররা তেরশ্রী কলেজ ক্যাম্পাসের বাসস্থান রেকি করে যায়।ঘিওরের মুসলিম লীগ, পিসকমিটি, রাজাকার-দালালদের ষড়যন্ত্র মোতাবেক ২২ নভেম্বর সোমবার শীতের ভোররাতে পাকবাহিনী একযোগে গণহত্যা শুরু করে। এ জঘন্য গণহত্যার অন্যতম শিকারে পরিণত হন অধ্যক্ষ আতিয়ার। সকাল বেলা ঘাতকেরা তাঁকে কোয়ার্টার থেকে ধরে কলেজ সংলগ্ন তেরশ্রী বাজারে মিন্টু শেখের দোকানের কাছে নেয়। এরপর তাঁকে অসংখ্য বেয়নেট চার্জ করে নির্মমভাবে হত্যা করে। তবে সৌভাগ্যক্রমে দুই বছরের ছেলে আবু আরিফ বাপ্পীকে নিয়ে তাঁর শ্যালিকা মমতাজ বেগম শাপলা ও স্ত্রী লাইলী বেগম লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান। তাঁর লাশ গ্রামবাসীর উদ্যোগে পার্শ্ববর্তী শ্রীধরনগর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ দিনের গণহত্যায় জমিদার সিদ্ধেশ্বরী বাবুমসহ তেতাল্লিশ জন গ্রামবাসীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ত্রিশজনের মতো নারী ধর্ষণের শিকার হয়। একশো চুয়াল্লিশটি বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। গ্রামের মানুষজন পুকুর-ডোবা, ঝোপ-ঝাড় ও ধান ক্ষেতে পালিয়ে আত্মরক্ষা করে।
তাঁর নির্মম মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তেরশ্রীর পার্শ্ববর্তী বড় কুষ্টিয়ার বিখ্যাত নন্দী পরিবারের সন্তান শিক্ষক সন্তোষ গোবিন্দ নন্দী মনু। তিনি বলেন, একাত্তরে আমার বয়স ছিল বাইশ বছর। আমি দেবেন্দ্র কলেজে বি.এ-র ছাত্র ছিলাম। দুপুরের পর তেরশ্রী বাজারে মিন্টু শেখের দোকানের কাছে অধ্যক্ষ আতিয়ার স্যারের লাশ পড়ে থাকতে দেখি। তাঁর গলা ও কাঁধের কাছে একটি এবং পেটের কাছে কয়েকটি বেয়নেট চার্জ করা হয়েছিল। তাঁর রক্তাক্ত লাশ আজও আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। শুধু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করায় তাঁকে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়।
আতিয়ার রহমান ১৯৬৮ সনে টাঙ্গাইলের কোদালিয়ার লাইলী বেগমকে বিয়ে করেছিলেন। বেতিলা হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা হেডমাস্টার আব্দুর রহমান ছিলেন তাঁর ভায়রা ভাই। তাঁর স্ত্রী ছিলেন গৃহিণী। তবে তিনি স্নাতক পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। তাদের ছিল দুই ছেলে। এরা হলেন আবু আরিফ বাপ্পী ও তাতা রহমান। মুক্তিযুদ্ধের সময় লাইলী বেগম অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এসময় ছোট ছেলে তাতা রহমানের জন্ম হয়। কিন্তু রোগ-শোক ও অযত্ন অবহেলায় কয়েক মাস পরে এ নবজাতকের শৈশবেই মৃত্যু হয়। স্বামী ও সন্তান হারিয়ে তাঁর জীবনেরও ছন্দপতন ঘটে। জীবনবাস্তবতার কাছে হার মেনে তাঁকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে হয়। একমাত্র জীবিত ছেলে বাপ্পী বর্তমানে একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। আতিয়ার রহমান তেরশ্রী কলেজে যোগদানের পর নিজ বাড়িতে সুন্দর করে দুটি টিনের ঘর, একটি লাইব্রেরি ও একটি সমৃদ্ধ বাগান করেছিলেন। এলাকায় প্রথম বিদেশি গাছ হিসেবে এখানে তিনি ইউক্যালিপটাসের আটটি চারা লাগান। যা বহুদিন এলাকাবাসীর আগ্রহের বস্তু ছিল।
তিনি কেবল একজন অধ্যক্ষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবতার প্রতীক। যেখানে তিনি তাঁর সাহসিকতার চরম মূল্য দিয়েছিলেন।
১৯৭২ সালে রাষ্ট্র তাঁকে শোকবার্তা ও সামান্য অনুদান দিলেও, তাঁর প্রকৃত স্বীকৃতি আমাদের হৃদয়ে এবং এই দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে। অবশেষে ২০২৪ সালে আতিয়ার রহমান স্যার শহিদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বীকৃতি প্রাপ্ত হন। তিনি আমাদের গর্ব।
তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা আজও মানিকগঞ্জবাসীর জন্য এক শাশ্বত প্রেরণার বাতিঘর হয়ে জ্বলছে। আসুন, আমরা এই মহান শহিদের অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল আদর্শকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।
বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ:
এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি তৈরিতে শহিদ অধ্যক্ষ আতিয়ার রহমানের সুযোগ্য পুত্র বাপ্পী-এর কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ, অপ্রকাশিত এবং এক্সক্লুসিভ তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর দেওয়া সেই সব মূল্যবান তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিবেদনটি সাজানো হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ এই ইতিহাস তুলে ধরতে আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ‘দৈনিক নতুন দেশ ২৪’ এবং সাংবাদিক পিযুষ পালের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
কপিরাইট সতর্কবার্তা ও আইনি নোটিশ:
এই গুণীজন সিরিজের সম্পূর্ণ লেখা, ঐতিহাসিক তথ্য ও গবেষণা লেখক পিযুষ পাল-এর একান্ত নিজস্ব মেধা স্বত্ব। এটি প্রথম গত ৩১ জুলাই, ২০২৬ তারিখে লেখকের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (Facebook ID: Pijush Paul Tanoy) থেকে প্রকাশিত হয়। লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের কোনো অংশ, তথ্য বা শিরোনাম হুবহু কপি-পেস্ট করা, আংশিক পরিবর্তন করে অন্য কোনো নিউজ পোর্টাল, ব্লগ, পত্রিকা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের নামে প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং মেধা স্বত্ব আইনের লঙ্ঘন। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও কপিরাইট আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
— লেখা ও গবেষণা —
পিযুষ পাল
স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক নতুন দেশ ২৪
মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক ঢাকার ডাক
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 





















